মণিরামপুরে এইচএসসি ভর্তিতে অতিরিক্ত ভর্তি ফিস আদায়!

0 ১৫

প্রবীর কুন্ডু, মণিরামপুর

সরকারি নিয়মনীতি ও নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে যশোরের মণিরামপুর সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অতিরিক্ত ভর্তি ফিস আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা বোর্ডের জারিকৃত ভর্তির প্রজ্ঞাপনে উপজেলায় এক হাজার টাকার বেশি হবে না উল্লেখ থাকলেও-শিক্ষা বোর্ডের নিয়মনীতির ও নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত ফিস গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে ওই কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
সূত্রে জানা যায়, কোভিড-১৯ এবং অভিভাবকদের আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয় বিবেচনা করে দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উল্লেখিত ফি যতদূর সম্ভব মওকুফ করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন ও যাবতীয় খরচের বিষয়ে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তির নির্দেশনা দিয়েছে। সেমোতাবেক শিক্ষা বোর্ডের জারি করা ভর্তির প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে, সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১ হাজার টাকার বেশি হবে না। নির্দেশনায় মফস্বল বা পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সেশন ফিসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে ১ হাজার টাকা। কিন্তু শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা ও নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত ভর্তি ফি গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে মণিরামপুর সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মণিরামপুর সরকারি কলেজে চলতি বছর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনলাইন প্রসেসিং ফি, ভর্তি ফি, ভর্তিকরণের নামে একাদশ শ্রেণির ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী প্রতি মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞান ও বিএম শাখায় ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া ভর্তি ফরম বাবদ আরও ১৫০ টাকা অতিরিক্তসহ মোট ভর্তি খরচ ১ হাজার ৬৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। গরিব, অসহায়, মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভর্তির ক্ষেত্রেও কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হচ্ছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষের ধার্য টাকার স্থলে কম দিলে ওই শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না।
মণিরামপুর সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী রুবায়েত হাসান রকি, রায়হান রানাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, রূপালী ব্যাংক, মণিরামপুর শাখায় কলেজের সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে জমা দেয়া ভর্তি বাবদ রসিদ মূলে ১ হাজার ৫০০ টাকা ও কলেজ থেকে ভর্তি ফরম বাবদ আরও ১৫০ টাকা নিয়েছে। অর্থাৎ ভর্তির জন্য আমার কাছ থেকে মোট নেয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা। কিন্তু আমাদের পার্শ¦বর্তী কেশবপুর সরকারি কলেজে সর্বমোট ভর্তি নেয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা, কলারোয়া সরকারি কলেজে নেয়া হচ্ছে ৯৯০ টাকা। কি কারণে আমাদের কলেজে ভর্তি ফিস বেশি নেয়া হচ্ছে সেটা বুঝতে পারছি না। আমরা যতদূর জেনেছি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এ বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে কোনো উল্লেখ নেই। সুতরাং এটি বিধিবহির্ভূত।
এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ বিএম রবিউল ইসলাম ফারুকী সাংবাদিকদের বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্বান্ত মোতাবেক নিয়মনীতির মাধ্যমেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়া বোর্ডের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভর্তির টাকা নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত কোনো টাকা আদায় করা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

মন্তব্য
Loading...