মণিরামপুরে প্রণোদনার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির নামে অর্থ আদায়

0

মণিরামপুর প্রতিনিধি

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের সরনপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক ফোরকান আহম্মদের (৬৫) মাঠে চাষাবাদ করার কোনো জমি না থাকায় ১১ শতক জমির ওপর বসতবাড়িতে সাতটি গাভী পালন করে আসছেন। প্রতিদিন দুধ বিক্রি করে সংসারের খরচ নির্বাহ করে থাকেন তিনি। এরই মধ্যে সরকার ঘোষণা দিয়েছে, করোনাকালীন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পারিবারিক ক্ষুদ্র খামারিদের মাঝে প্রণোদনা দেওয়ার। সে মোতাবেক প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে গাভী পালনকারী প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত খামারির নামের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য। কিন্তু সরনপুরের ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ফোরকান আহম্মদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে তার কাছ থেকে ইউপি সচিব ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ৫৩০ টাকা, অনলাইন ফিস ২০ টাকাসহ মোট ৫৫০ টাকা আদায় করেছেন। আবার রোহিতা গ্রামের অপর খামারি শামিনুর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করতেও একইভাবে ৫৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে। শুধু ফোরকান আহম্মদ অথবা শামিনুর রহমানের কাছ থেকে নয়। একইভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে ইতিমধ্যে ৯৫ জন খামারির কাছ থেকে টাকা আদায় করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবুজার সিদ্দিকী জানান, করোনাকালীন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র পারিবারিক খামারিদের প্রণোদনার জন্য মণিরামপুর উপজেলায় মোট দুই হাজার চারশ খামারির মধ্যে একহাজার চারশ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রতি খামারির ন্যূনতম পাঁচ থেকে ১০টি গাভী থাকতে হবে। এছাড়াও এসব খামারে অন্তত দুইটি গাভী দিনে ১০ কেজি করে দুধ দেয়। এমন খামারির নামের তালিকা চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার কথা। প্রতি খামারিকে সরকারের পক্ষ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা দেয়া হতে পারে। আর এসব তালিকা মনিটরিংয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হোসেনকে সভাপতি এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবুজার সিদ্দিকীকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। মনিটরিং কমিটি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা করতে উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
সে মোতাবেক রোহিতা ইউনিয়নে মোট ১৪০টি খামারির নাম অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, রোহিতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু আনসার এবং সচিব কৃঞ্চ গোপাল মুখার্জী প্রতি খামারির কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্সের নাম করে ৫৫০ টাকা হারে আদায় করার।
অবশ্য ইউপি সচিব কৃঞ্চ গোপাল মুখার্জী জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি টাকা আদায় করছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আবু আনসার জানান ভিন্ন কথা। তিনি জানান, সচিবের পরামর্শক্রমে পরিষদের আনুষঙ্গিক খরচ নির্বাহের জন্য এ টাকা আদায় করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, তার ইউনিয়নের প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মীর মাধ্যমে খামারির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ জন্য কারোর কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।
তালিকা মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবুজার সিদ্দিকী জানান, তালিকায় অন্তর্ভুক্তের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার বিধান নেই। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হোসেন জানান, টাকা আদায়ের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য
Loading...