যাত্রীছাউনি নির্মাণের বিরোধে মাগুরায় ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলা

0 ৫৬

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় যাত্রীছাউনি নির্মাণের ঘটনা নিয়ে ৯টি বাড়ি এবং একটি তুলার কারখানায় ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল মান্দারতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শ্রীপুর উপজেলার ওয়াপদাস্ট্যান্ডে যাত্রীছাউনি নির্মাণের জন্য এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘন্টা ধরে চলা এই হামলা ভাঙচুরে স্থানীয় বিএনপি এবং হাইব্রিড কর্মীরাও অংশ নেয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর, নাকোল এবং রায়নগর গ্রামের অন্তত দুইশ লোকজন জড়ো হয়ে মাগুরা জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার মুন, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্মসম্পাদক আলামিন শেখ, তার ভাই ইমরান শেখ, রবিউল শেখ, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্মসম্পাদক হোসেন ম-ল, ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক বড় ভাই ইনামুল হক এবং যুবলীগ কর্মী চঞ্চল শেখের বাড়িসহ মোট ৯টি বাড়ি ও একটি তুলার কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়িঘর থেকে মূল্যবান মালামাল লুট হয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মাগুরা-ফরিদপুর সড়কের ওয়াপদা বাজারে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে বাজারের কিছু ব্যবসায়ীর চলাচল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় কয়েক ফুট সরিয়ে নির্মাণকাজ চালানোর দাবি জানান তারা। বিষয়টি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুন্ডু এবং নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়নুর রশিদ মুহিতের কাছে জানানো হয়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুন্ডু বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও হুমায়নুর রশিদ মুহিত ওই স্থানেই যাত্রীছাউনি নির্মাণের বিষয়ে অটল থাকেন। এ অবস্থায় শনিবার সকালে জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার বাজারে নির্মাণকাজ শুরু করলে ছাত্রলীগ নেতা মুন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। যে ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকালে চেয়ারম্যান মুহিত সমর্থিত শশ লোকজন জোটবদ্ধ হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাকোল ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়নুর রশিদ মুহিত বলেন, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের কমিটমেন্ট ছিল বাজারে একটি যাত্রীছাউনি বানানো হবে। সেজন্যে সরকারি জায়গাতে যাত্রীছাউনি বানানো হচ্ছে। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা মুন বিরোধিতা করে বাজারে দাঁড়িয়ে আমার এবং এমপির বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। যে কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকে বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে।
হামলা ভাঙচুরের শিকার জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার মুন বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যাত্রীছাউনিটি সরিয়ে নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু মুহিত চেয়ারম্যান সেটি না সরিয়ে জোর করেই ওই স্থানে সেটি করতে চান। এর বিরোধিতা করায় তার নির্দেশে বিভিন্ন গ্রাম থেকে শ শ লোক জড়ো করে কাপুরুষের মতো বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর লুটপাট চালিয়েছেন। আর এমপি আমাদের নেতা। তাকে অসম্মান করার প্রশ্নই ওঠে না।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলি আহমেদ মাসুদ জানান, খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

মন্তব্য
Loading...