করোনাকালে যশোরের ক্রিকেটার মুরাদ খানের নন্দিত উদ্যোগ

0 ৬০৮

এম এ রাজা

করোনাকালীন যশোরের অধিকাংশ ক্লাব কর্মকর্তারা ঘরবন্দি দিন কাটিয়েছেন। সেখানে করোনাকালে নন্দিত উদ্যোগ নিয়েছে যশোর জেলা দলের ক্রিকেটার মুরাদ খান। দীর্ঘদিন খুলনা বিভাগীয় দলে যশোরের প্রতিনিধিত্ব করা মুরাদ খান যশোরের স্পিনারদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছেন। উপশহর কেন্দ্রীয় ক্রীড়া উদ্যানে চার মাস ধরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই স্পিনারদের ডেভেলপমেন্টে কাজ করছেন বাঁহাতি এই স্পিনার।
‘স্পিন বোলিং স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ নামের এই ক্যাম্পে বিভিন্ন পর্যায়ের যশোর জেলার দলের ১০ এর অধিক স্পিনার অংশ নিচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি এই ক্যাম্পে কয়েকজন ব্যাটসম্যানও আসছেন তাদের স্কিল নিয়ে কাজ করতে।
রোববার দেখা যায়, চার-পাঁচ বোলার বল করছেন নেটে। এই সময় বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন মুরাদ খান।
ক্যাম্পে নিয়মিত অংশ নেয়া সিফাত মিম বলেন, করোনার এই সময় কোথায় প্রাকটিস করার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। তারপরে মুরাদ ভায়ের সাথে যোগাযোগ করে এখানে আসছি। মুরাদ ভাই দীর্ঘদিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলেছে। চেষ্টা করছি মুরাদ ভাই দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তার থেকে কিছু শিখতে।
২০১৮ সালে যুব ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলা টিপু সুলতানও ক্যাম্পের শুরু থেকে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, করোনাকালীন তো কোনো প্রাকটিস করছিলাম না। পরে মুরাদ ভাই সবাইকে ডেকে নিজে সময় দিচ্ছে। মুরাদ ভাই অনেক অভিজ্ঞ। বিপিএল খেলছে, অনেক বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলছে। উনার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করে। উনার এই কাজটা সবার ভাল লাগে। আমাদের অনেক উপকার হচ্ছে।
জেলা দলের অলরাউন্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজু বলেন, অনেকেই প্রাকটিসের জন্য জায়গা দেয় না। মুরাদ সেখানে নিজের নেট, বলসহ সকল সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। নিজে সময় দিচ্ছে। সেই সাথে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। যা যশোরের আর কোথাও পাওয়া যাবে না। মুরাদ যা করছে যশোরের ক্রিকেট জন্য অনেক বড় ব্যাপার। রাজু আরও বলেন, এই ক্যাম্পে যারাই অংশ নিয়েছে তাদেরই কোন না কোন উন্নতি হয়েছে। আমি নিজেই প্রথম যখন এখানে শুরু করেছিলাম তার থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে।

মুরাদ খান বলেন, কোভিড-১৯ এর সময় সকলেই ঘরবন্দি দিন কাটাচ্ছিল। সেই সাথে কোন খেলাধুলাও নেই। এই সময় আমি চিন্তা করলাম যশোরের যা উঠতি খেলোয়াড় আছে তাদের কিছু করা যায় কিনা। সেই চিন্তা থেকে সকলকে এক জায়গায় করে ক্যাম্প শুরু করেছি। যেহেতু এই সময় কোন খেলা নেই, খেলোয়াড়রা যদি তাদের স্কিলটা বাড়িয়ে নিতে পারে তাদের জন্যই ভাল হবে। আমি দীর্ঘদিন বিভিন্ন জায়গায় ক্রিকেট খেলেছি ক্যাম্পের খেলোয়াড়দের সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে তারা যদি কিছু শিখতে পারে সেটাই আমার জন্য বড় পাওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন মাশরাফি, আব্দুর রাজ্জাক, সৈয়দ রাসেলেদের সাবেক এই সতির্থ।
তিনি আরো বলেন, সৈয়দ রাসেল ও তুষার ইমরানের পর জাতীয় দলের যশোরের কোন প্রতিনিধিত্ব নেই। সবাই যার যার জায়গা থেকে যদি চেষ্টা করা হয় তাহলে যশোরের ক্রিকেট আবার ভাল অবস্থানে যাবে।
খেলোয়াড়ি জীবনে মুরাদ খান বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল, খুলনা বিভাগ, দক্ষিণাঞ্চল, রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবসহ বিভিন্ন দলে খেলেছেন। নয় বছরে খুলনা বিভাগ ও দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে খেলেছেন ৪১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। ৪১ ম্যাচে ৭৫ ইনিংসে বাঁহাতি স্পিনে নিয়েছেন ১৫২ উইকেট। এর মধ্যে ইনিংসে ৫ উইকেট আছে ৫ বার আর ৪ উইকেট নিয়েছেন আটবার। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন একবার। ২৯ রানে ৭ উইকেট ইনিংস সেরা ও ১২৯ রানে ১১ উইকেট ম্যাচ সেরা বোলিং। অন্যদিকে ৪৪টি লিস্ট এ ক্রিকেটে দখল করেছেন ৫২ উইকেট। পাঁচ উইকেট নিয়েছেন দুইবার। ২৯ রানে ৫ উইকেট লিস্ট এ ক্রিকেটে সেরা বোলিং। এছাড়া ৬টি স্বীকৃতি টি-২০ খেলেছেন। ৬ ম্যাচে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ১৯ রানে ৩ উইকেট সেরা বোলিং। বিপিএল অভিযেক ম্যাচে নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার ওপেনার টিএম দিলসান ও সাকিব আল হাসানের উইকেট। ইনজুরি ও ফর্মহীনতায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট থেকে সাবেক তকমা জুটলেও এখনো নিয়মিত খেলেন যশোর লিগে। সর্বশেষ মৌসুমে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন। খেলার পাশাপাশি কোচিং এর সাথে যুক্ত হয়েছেন। উপশহর ক্রিকেট একাডেমি নামে একটি একাডেমিও গড়ে তুলেছেন।

মন্তব্য
Loading...