সাংবাদিক নামধারী প্রতারকদের আর ছাড় নয়

0 ২১০

সহযোগী একটি দৈনিকে সাংবাদিক পরিচয়ে শতাধিক প্রতারক মাঠ চষে বেড়াচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মার্টফোন পুঁজি করে অনেকে সম্পাদক বনে গেছে। এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় সাংবাদিকতার একটি পরিচয়পত্র কিনে নিয়ে তারা অপতৎপরতায় লিপ্ত। তারা তাদের মোটরসাইকেলে প্রেস অথবা সাংবাদিক লিখে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের ভীড়ে প্রকৃত সাংবাদিকরা পথ হারাচ্ছেন।
সাংবাদিক পরিচয়ে এভাবে প্রতিনিয়ত প্রতারণার খবর পাওয়া যায়। যতদূর জানা যায়, এক শ্রেণির পত্রিকা আছে যেগুলোকে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ পত্রিকা বলা হয়। এসব পত্রিকার যারা ঘোষিত প্রকাশক/সম্পাদক তারাই মূল প্রতারক। সাংবাদিকতা তাদের নেশা-পেশা কিছুই না। পত্রিকার নাম ভাঙিয়ে মানুষের ভয় ভীতি দেখিয়ে টাকা বাগানো তাদের কাজ। তারা বাহারী পরিচয়পত্র তৈরি করে মর্যাদাপূর্ণ (?) পদ দিয়ে এজেন্ট-প্রতারকদের কাছে বিক্রি করে। তাদের সাথে কথিত প্রকাশক/সম্পাদকের চুক্তি থাকে গ্রাম-জনপদ চষে খাও। পারসেন্টেজ পাঠাও। তিক্ত হলেও সত্য, প্রকাশ্য অনেক পত্রিকার বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ আছে। তারা সাংবাদিকতার পবিত্র অঙ্গন কলুষিত করছে দারুণভাবে।
প্রতারণার কি সহজ প্রক্রিয়া। কল্পিত কাহিনীর ফাঁদে ফেলে মানুষ ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে বেশ সহজ। কারণ মানুষ চায় না অহেতুক কোনো ফ্যাসাদে জড়াতে। পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে আর কিছু না হোক মানহানী তো ঘটবে। আর তাই এ সব ঝামেলা এড়াতে পকেট থেকে কষ্টে উপার্জিত টাকা বের করে দেয় ওই সব প্রতারকদের হাতে। এদের বিরুদ্ধে তেমন কিছু দেখা যায় না বলে এ ধরনের প্রতারকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। অবস্থা যা তাতে একদিন দেখা যাবে প্রকৃত সাংবাদিকরা পথে নামতে পারছেন না। এমন অবস্থা যে ইতোধ্যে সৃষ্টি হয়নি তাও বলা যাবে না। অথচ এই মহৎ পেশাটি এক সময় অত্যন্ত সম্মানজনক ছিল। সাংবাদিকরা ছিলেন সবার সম্মান-শ্রদ্ধার পাত্র। সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় সাংবাদিকদের দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সাথে এ সব টাউট বাটপাড়দের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত জরুরি।
পত্রিকাটি একটি আশার কথা উল্লেখ করেছে। বলা হয়েছে সাংবাদিক নামধারী এ সব প্রতারকদের সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ইতোমধ্যে তথ্য পৌঁছেছে। তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে সংস্থা কাজও শুরু করেছে। পেশার পবিত্রতা যারা নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে কাল ক্ষেপণ করলে পরিস্থিতি এক দুঃখজনক অবস্থায় পৌঁছাবে।

মন্তব্য
Loading...