প্রশাসন জনপ্রতিনিধি সমাজপতি আপনাদের ঘুম ভাঙান

0 ২৫

প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সামাজপতি, সামাজিক সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ এক কথায় সমাজের চালিকাশক্তির সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা বলতে চাই যারা প্রশাসনের আছেন তাদের নিয়োগ কি শুধু মাস প্রতি সরকারি অঢেল সুযোগ গ্রহণ করে ফূর্তি মেরে বেড়ানোর জন্য? আপনাদের হাতের নাগালে দিনের পর পর দিন যে সর্বনাশটা হয়েই যাচ্ছে তার খবর রাখার গরজ মনে করেন না কেন? জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে নিনীতভাবেভাবে বলতে চাই নির্বাচনের আগে আপনারা জনগণের সেবার যে গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট ভিখারী হয়েছিলেন সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেলেন কেন? আপনার নিকট প্রতিবেশি স্বজনের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তার খবর আপনারা রাখার প্রয়োজন মনে করছেন না কেন? সমাজপতি, সামাজিক সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলি- পান থেকে চুন খসলেই অর্থাৎ অপ্রয়োাজনীয় বিষয়েও বিবৃতির ডালি নিয়ে হাজির হন, ভাবখানা এমন দেখান যে আপনারা ছাড়া এ দেশের মানুষের দুঃখ-বেদনায় আর কেউ সাথেী নেই। আপনারা তো বিবৃতি ব্যসায়ী বলে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। কিন্ত আপনার আশেপাশের অসহায় মানুষগুলোর জন্য আপনারা নাকে খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন কোন বিবেকে।
আমরা বলছি কৃষকের সন্তান সমতূল্য ফসল নষ্ট করে তাদেরকে সর্বস্বান্ত করার হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির দুর্বৃত্তরা কৃষকের ফসল কেটে পুড়িয়ে তাদেরকে শেষ করে ফেলছে। কিন্তু এ বিষয়ে আজ পর্যন্ত প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজপতি, সামাজিক সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের কেউ উচ্চবাচ্য করছেন না। গত ৩ সেপ্টেম্বর ফসল নষ্ট করার শেষ ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার করিমপুরে। ওই গ্রামের হারুনর রশিদের ২ বিঘা জমির পেয়ারা গাছ কেটে সাবাড় করেছে। আমাদের কাছে আরো তথ্য আছে যশোরের শার্শা উপজেলার বড়আঁচড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ২৫ কাঠা জমির মাসকলাই পুড়িয়ে দিয়েছে। দুর্বৃত্তরা ঝিনাইদহ জেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামের টিপু সুলতানের এক বিঘা জমির কলা গাছ তার দুই প্রতিবেশী কেটে দিয়েছে। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে এক কৃষকের ক্ষেতের বিভিন্ন প্রকার প্রায় ২ হাজার গাছ কেটে দিয়েছে। যশোরের চৌগাছায় এক কৃষকের ক্ষেতের ফসল দুবার নষ্ট করার কথা জেনেছি। এক রাতে দুর্বৃত্তরা হোগলাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক নূর ইসলামের শিম গাছ কেটে দেয়। তিনি এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছিলেন। এই গাছে যখন শিম ধরা শুরু করে ঠিক তখন দুর্বৃত্তরা অর্ধেক জমির শিম গাছ কেটে দেয়। দুর্বৃত্তরা এর মাস ছয়েক আগে এই কৃষকের ২ বিঘা জমির পেপে গাছ কেটে দিয়েছিল। ঝিনাইদহের মহেশপুরের এক কৃষকও একই ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ওই উপজেলার মান্দারবাড়িয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের চারশ’ পেয়ারা গাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। তিনি এক বিঘা ১২ কাঠা জমিতে পাঁচশ’ পেয়ারা গাছ রোপণ করেছিলেন। কিছু দিন আগে কালীগঞ্জে এক কৃষকের ধান ক্ষেতে ঘাষমারা ওষুধ দিয়ে তার ফসল জ্বালিয়ে দেয়া হয়। একই এলাকার এক কৃষকের কলাগাছ কেটে সাবাড় করে দুর্বৃত্তরা। যশোরের ঝিকরগাছায় এমন ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। দুর্বৃত্তরা আবার পুকুর বা ঘেরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলছে।
অমানুষ না হলে কেউ মানুষের মুখের গ্রাস এভাবে নষ্ট করতে পারে না। গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের ঘায়েল করার এক মোক্ষম কৌশল বের করেছে দুর্বৃত্তরা। কোনো কৃষকের সাথে যদি কারো দ্বন্দ্ব কলহ হয় তাহলে প্রকাশ্যে কৃষকের বিরুদ্ধে কিছু না করে তার ফসল নষ্ট করে দিয়ে তাকে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে। এমন ধরনের ঘটনা সন্ত্রাসীরা প্রায়শ ঘটাচ্ছে।
গ্রাম এলাকায় একটা কথা প্রচলিত আছে, ‘এক জায়গায় চাঁদ উঠলে সব জায়গায় ওঠে।’ ফসল নষ্ট করে কৃষককে ক্ষতি করার দুর্বৃত্তদের এ কৌশল সব জায়গায় শুরু হয়েছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। বিষয়টা কোনোক্রমেই অবহেলা করার মতো নয়। কারণ বিষয়টি উৎপাদনের। যার সাথে মানুষের বেঁচে থাকার সম্পর্ক জড়িত। কৃষক তার শরীরের রক্ত পানি করে ফসল ফলান। সেই ফসল দেশের মানুষের ক্ষুধার অন্ন হয়। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলেই সম্ভবত দুর্বৃত্তরা একই অপরাধ বার বার ঘটাতে আষ্কারা পাচ্ছে।
ফসল যারা ক্ষতি করতে পারে তারা পারে না এমন কোনো অপরাধ নেই তাদের কাছে। এদের দমনে শৈথিল্য প্রদর্শন জাতির ক্ষতিকে তরান্বিত করার শামিল। ফসল নষ্ট করার কয়েকটি ঘটনা থেকে যা জানা গেছে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বেশুমার ক্ষতির যে বর্ণনা আমরা পেয়েছি তাতে ওই কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। ফসল ক্ষতিকারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এক দিন দেখা যাবে কৃষকরা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য শুভ খবর নয়। এমন একটি অবস্থা হবার আগেই ফসল হন্তারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্তব্য
Loading...