আমাদের কবিতা ও বঙ্গবন্ধু

১৪৭

তাপস মজুমদার

বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এপার বাংলা ওপার বাংলার নামকরা কবিরা কয়েক হাজার কবিতা লিখেছেন। বাংলাদেশের প্রায় সকল কবিই লিখেছেন বঙ্গবন্ধু স্মরণে, বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে। বিখ্যাত কবিদের এ সব কবিতায় আমরা দেখতে পাই বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বাঙালির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধুকে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আর্দশ, চেতনাবোধ, বাঙালির প্রতি, বাংলার প্রতি, মাতৃভাষার প্রতি এবং তাঁর যে দেশত্ববোধ সবই কবিদের কবিতার ফ্রেমে ছন্দবদ্ধ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্মরণে বিখ্যাত বহুল প্রচলিত এবং প্রচারিত কবিতা
‘যতকাল রবে পদ্মা-মেঘনা/ গৌরি যমুনা বহমান/ ততকাল রবে কীর্তি তোমার/ শেখ মুজিবুর রহমান’।
এ কবিতাটি লিখেছিলেন কবি অন্নদাশঙ্কর রায়। তিনি এ কবিতাটি লিখেছিলেন ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বরের আগে অথবা পরে । এ কবিতা প্রসঙ্গে তিনি নিজে জানিয়েছেন, ‘ভারত দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি। আমরা ক’জন সাহিত্যিক যাচ্ছি সবে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাণপুরুষদের অভিনন্দন জানাতে মুজিবনগরে। তিনি আরও জানান, শেখ মুজিবুর রহমান যদিও মুজিবনগর সরকারের শীর্ষে তবুও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকরা মুজিবনগরে গিয়ে সম্ভব হতো না। সেদিন মুজিবনগর থেকে ফিরে আসি তাঁর জন্যে ভয় ভাবনা ও প্রার্থনা নিয়ে। যুদ্ধ তখনো শেষ হয়নি, তার সবে আরম্ভ। যুদ্ধে হেরে গেলে পাকিস্তানিরা কি শেখ সাহেবকে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে দেবে? প্রতিশোধ নেবে না? এর মাস চার-পাঁচ আগে থেকেই তাঁর প্রাণ রক্ষার জন্যে আবেদন বিশ্বময় ধ্বনিত হয়েছিল। তার জন্যে কলকাতার ময়দানে আমরা সাহিত্যিকরাও জমা হয়েছিলুম। তার কিছুদিন আগে কি পরে আমি রচনা করি ‘যতকাল রবে’ (অন্নদাশঙ্কর রায়: কাঁদো প্রিয় দেশ, প্রথম বাংলাদেশ সংস্করণ, অন্বেষা, ঢাকা ১২১০) শুধু তাই নয় তিনি আরো লিখেছিলেনÑ
নরহত্যা মহাপাপ, তার চেয়ে পাপ আরো বড়ো / করে যদি যারা তাঁর পুত্রসম বিশ্বাসভাজন
জাতির জনক যিনি অতর্কিতে তাঁরেই নিধন / নিধন সবংশে হলে সেই পাপ আরো গুরুতর।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শাসকগোষ্ঠী চেয়েছিল তাঁর নামটি যেন ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যায়। যে কারণে সে সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লেখা ছিল অনেকটা জীবনের ঝুকি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণ নিজেই বলেছেন-বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর জীবনের ঝুকি নিয়ে তাঁকে কবিতা লিখতে হয়েছে। ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’ শিরোনামের কবিতাটি ১৯৭৭ সালে একুশের ভোরে বাংলা একাডেমির কবিতা পাঠের আসরে পাঠও করেছেন অসীম সাহস নিয়ে। কবিতাটি এই রকমÑ
‘শহিদ মিনার থেকে খসেপড়া একটি রক্তাক্ত ইট / গতকাল আমকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি / আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।’
বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর প্রথম প্রকাশ্যে পঠিত কবিতা এটি। বাংলার মানুষের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখিত কবিতার মধ্যে জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচারিত কবিতার কবিও নির্মলেন্দু গুণ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ যে ভাষণটি আজ শুধু একটি ভাষণই নয় আন্তজার্তিক ভাবে স্বীকৃত একটি বিখ্যাত ভাষণ। যে ভাষণে বাঙালিজাতি বলিয়ান হয়ে উঠেছিল, যে ভাষণের আহবানে শিশু থেকে বৃদ্ধ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল, ঝাপিয়ে পড়েছিল যুদ্ধে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে তিনি লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা,এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ শিরোনামের কবিতায়Ñ
‘একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে / লক্ষ লক্ষ উন্মুক্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে / ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে; কখন আসবে কবি’?
তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের আগে আরবি ভাষায় কবিতা রচনা করেন আরবি শিক্ষক বঙ্গবন্ধুর বাল্যবন্ধু মৌলভী শেখ আব্দুল হালিম। তিনি বঙ্গবন্ধুর মরাদেহ কাফনের কাপড়ে মুড়িয়ে সমাধিস্থ করার পর হৃদয়ের কষ্ট থেকে এ কবিতাটি লেখেন। বঙ্গবন্ধ নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর এটিই হলো প্রথম কবিতা। কবিতাটি পরবর্তীতে তিনি বাংলা অনুবাদ করেছিলেন।
‘হে মহান, যাঁর অস্থি-মজ্জা, চর্বি ও মাংস এই কবরে প্রোথিত।
যাঁর আলোতে সারা হিন্দুস্থান, বিশেষ করে বাংলাদেশÑ আলোকিত হয়েছিল ।
আমি তোমার মধ্যে তিনটি গুণের সমাবেশ দেখেছিÑ ক্ষমা, দয়া ও দানশীলতা।
নিশ্চয়ই তুমি বিশ্বের উৎপীড়িত এবং নিপীড়িত পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলে
সেই হেতু অত্যাচারীরা তোমাকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করেছে
আমি-আমরা বাংলাদেশের রাষ্টপতির কাছে তাদের বিচারের প্রার্থনা জানাই
যারা তোমাকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে’।
আবার বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর লুৎফুন নাহার লতা তাঁর ‘প্রতিশোধ’ কবিতায় লিখেছেনÑ
যদি একশো, বছরও লাগে, লাগুক/ আমি তাঁর হত্যার প্রতিশোধ নেব।
যদি কেটে যায় অনন্ত যৌবন আমার/ বার্ধক্যে, জরায় নিভে আসে শরীরের তেজ
তবুও হৃদয় জ্বালাবে আগুন,/ সেই জ্বলন্ত অগ্ন্যুপাতে ঝলসাবো তাঁর খুনিদের।’
এমনি কতযে কবিতা কবিদের কলমে উঠে এসছে তার সঠিক সংখ্যা খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। বঙ্গবন্ধুর সাহচার্য পাওয়া বাংলাদেশের অন্যতম কলাম লেখক স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিত জয় বাংলার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে’ শিরোনামেÑ
‘তোমার বিজয় পতাকা এখন মাটির ধুলায় নমিত / তোমার দীপ্ত আদর্শ আজ শকুনির পায়ে দলিত।
আকাশে উড়ালে সূর্য-পতাকা/ তাতে আজ শুধু রক্তই মাখা / জয় বাংলা কমু কন্ঠ আজ বাংলায় দমিত
তোমার বিজয় পতাকা এখন মাটির দুলায় নমিত।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এপার বাংলা ওপার বাংলার কবিরা যত বেশি কবিতা লিখেছেন অন্য কোন রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে এত বেশি কবিতা রচিত হয়েছে বলে মনে হয় না। এমনকি দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে ততই যেন বঙ্গবন্ধু প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন। সাধারণ মানুষের কাছে যেন আবেদনটাও বাড়ছে। কোন কোন বিখ্যাত কবির কবিতা আবার গান হয়ে উঠেছে। ঠিক তেমনি একটি কবিতা
‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে’ শিরোনামের কবিতায় লিখেছেন গীতিকবি গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার ।
‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে/ লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি
আকাশে বাতাসে উঠে রণি/ বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।
আবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি যখন বঙ্গবন্ধুর রক্তে লাল হলো যখন বুলেটের গুলিতে ঝাঝরা হলো বঙ্গবন্ধুর শরীর যখন ঐবাড়ির দেওয়ালে বঙ্গবন্ধুর শরীরের রক্তে ছোপ ছোপ দাগ, সিঁড়িতে যখন বঙ্গবন্ধুর রক্তের ¯্রােতধারা তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করে কবি রফিক আজাদ লিখলেন,
‘এ সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে / সিঁড়ি ভেঙ্গে রক্ত নেমে গেছে/ বত্রিশ নম্বর থেকে/ সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।’
আবার বাংলার আর এক অন্যতম কবি মহাদেব সাহা লিখলেন, আমি কি বলতে পেরেছিলাম কবিতায়Ñ
আমার টেবিলের সামনে দেয়ালে শেখ মুজিবের / একটি ছবি টাঙানো আছে
কোন তেলরঙ কিংবা বিখ্যাত স্কেচ জাতীয় কিছু নয়/ এই সাধারণ ছবিখানা ১৭ মার্চ এ বছর শেখ মুজিবের/
জন্মদিনে একজন মুজিবপ্রেমিক আমাকে উপহার দিয়েছিল/ কিন্তু কে জানতো এই ছবিখানি হঠাৎ দেয়াল ব্যেপে/
একগুচ্ছ পত্রপুষ্পের মতো আমাদের ঘরময় / প্রস্ফুটিত হয়ে উঠবে সেদিন রাত্রিবেলা।’
বাংলাদেশ মানেই শেখ মুজিব, শেখ মুজিব মানেই বাংলাদেশ। তিনি কোটি বাঙালির কন্ঠস্বর। তাইতো তাঁর স্মরণে আমাদের পল্লীকবি জসীমউদ্দীন তাঁর ‘বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামের কবিতায় লিখলেন,
‘মুজিবুর রহমান / ওই নাম যেন ভিসুভিয়াসের অগ্নি-উগারী বান
বঙ্গদেশের এ প্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেয়ে / জ্বালায় জ্বলিছে, মহাকালানল ঝঞ্ঝা-অশনি বেয়ে’।
কবিরা যেমন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন তেমনি রাজনৈতিক নেতাও লিখেছেন প্রিয় বঙ্গবন্ধু স্মরণে। ১৯৯৬-২০০১ সালের বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাংসদ পান্না কায়সার লিখেছেনÑ
‘আমার পতাকাই তোমার ছবি, তোমার কথা/ আমার জাতীয় সঙ্গীত
তোমার চেতনা স্ফটিক হয়ে জ্বলে/ পবিত্র সংবিধানে, তোমার সান্নিধ্য পাই / মহান সংসদ কক্ষের প্রাণের গুঞ্জনে।
বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক এবং রাজনীতিবিদ, নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম একজন নারী সংগঠক, জাতীয় সংসদের সদস্য বেবী মওদুদ লিখেছেন, ‘শেখ মুজিব চিরঞ্জীব’কবিতায়Ñ
টুঙ্গিপাড়ার সোনার ছেলে শেখ মুজিব/ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব। / ইতিহাসের বীর বাঙালির কৃতিত্ব / অবাক বিশ্ব দেখেছে তাঁর বীরত্ব।
রবিশঙ্কও মৈত্রী মরমিভাব বিতরণের মধ্য দিয়ে শুদ্ধ সত্য সুন্দর মানুষের সম্মিলন রচনাই তাঁর ব্রত। তিনি ‘মহাকাব্যের মহানায়ক’ কবিতায় লিখেছেনÑ
‘একটি পোস্টারে তোমকে কী স্মরণ করবো/ বাংলাদেশ তো একটি অখ- পোস্টার, বঙ্গবন্ধু।
একটি ক্যানভাসে কী আঁকব তোমকে?/ বাংলাদেশের মানচিত্র জুড়ে জ্বলজ্বল করছ তুমি।’
আবার সত্তরের দশকে আত্মপ্রকাশ করা বাংলাদেশের অন্যতম ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন লিখেছেন, ‘তুমিই শ্রেষ্ঠ’ কবিতায়Ñ
‘শেখ মুজিবুর জাতির জনক, যারা মেনে নিতে চাইনে / তারা তাঁকে ফের অপমন করি নতুন পতাকা আইনে।
সিংহ-মুকুট শোভিত ইঁদুর, এমন সময় বৈরী / যাহারা তাঁহকে অপমন করে তাহারা কিসের তৈরী।’
বাংলাদেশের একজন চিন্তক, লেখক ও কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান লিখেছেন, ‘১৫ আগস্ট এলিজি ’ কবিতায়-
ইতিহাস নয় / অদৃষ্টের পরিহাস/ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,/ তোমার ঘাতকেরা আজ
নিজেদের সেবকরূপে জাহির করে…
বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা নারীবাদী ও আধুনিক বাংলাদেশের নারী প্রগতি আন্দোলনের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব সুফিয়া কামাল লিখেছেন ‘ডাকিছে তোমরে’ কবিতায়Ñ
‘এই বাংলার আকাশ-বাতাস, সাগর-গিরি ও নদী/ ডাকিছে তোমারে বঙ্গবন্ধু ফিরিয়া আসিতে যদি
হেরিতে এখনও মানব হৃদয়ে তোমার আসন পাতা/ এখনও মানুষ স্মরিছে তোমরে, মাতা-পিতা-বোন-ভ্রাতা।’

বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি। তাইতো তিনি বলেছিলেন ‘ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময়ও বলবো আমি বাঙালি’। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর স্বপ্নের দেশের মাটিতে পা রেখেই ছুটে গিয়েছিলেন সেই ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে যে ময়দান তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। সেদিনও সেখানে বাঙালির প্রিয় নেতা, জাতির পথ প্রদর্শক বঙ্গবন্ধুর জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ অপেক্ষা করছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি সেদিন তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমি বাঙালি, আমি মানুষ’। তাইতো সেলিনা হোসেন ‘তাই তিনি বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে প্রথম দু’চরণে লিখেছেনÑ
‘তিনি একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি/ আবহমান বাংলার গৌরব তাঁর মাঝে বিমূর্ত।’
এই কবিতা শেষ দুচরণে তিনি বলেছেনÑ
বাঙালির সবটুকু তাঁর ভেতর দৃশ্যমান/ তাই তিনি বাঙালি।
আবার কবি শামসুল হক তাঁর ‘আমার পরিচয়’ কবিতায় লিখলেনÑ
‘আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি/ আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চিহ্ন ফেলে/ তোরোশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে।
এ কবিতার শেষ চার চরণÑ
‘এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ, আমি কি তেমন সন্তান?/যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান
তারই ইতিহাস প্রেরণার আমি বাংলায় পথ চলিÑ/চোখে নীলাকাশ,বুকে বিশ্বাস পায়ে উর্বর পলি’।
বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক কবি শামসুর রাহমান ‘তাঁর যাঁর মাথায় ইতিহাসের জ্যোতি-বলয়’ শিরোনামের কবিতায় বলেছেন,
‘যখন সুবেসাদিকে মুয়াজ্জিনের আজান / চুমো খেলো শহরের অট্টালিকার নিদ্রিত গালে
ফুটপাতের ঠোঁটে, ল্যাম্পপোস্ট আর/ দোকানপাটের নিঝুম সাইনবোর্ডের চিবুকে
স্তব্ধ গাছের মাথায়, পাখির নীড়ের ¯িœগ্ধ নিটোল শান্তিতে/ তখন ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়িতে
কয়েকটি কর্কশ অমাবস্যা ঢুকে পড়ল। অকস্মাৎ’
প্রখ্যাত কবি আসাদ চৌধুরী লিখেছেন, ‘দিয়েছিলে অসীম আকাশ’ শিরোনামের কবিতায়Ñ
আমাকে দিয়েছিলে তুমি অসীম আকাশ।/ আকাশটা পেয়েছিলাম আমি, আমরাই।/ পেয়েছিলাম অনেকের ত্যাগে, সাধনায়। পেয়েছিলাম,
কেন না তুমিই চেয়েছিলে/ আমাদের ঘাড় থেকে নেমে যাবে/ দুঃখ-অপমানের ভারি ভারি বোঝা।
দু’চোখ থেকে দুঃস্বপ্নের দিনগুলো,
রাতগুলো চিরকালের জন্য অদৃশ্য হয়ে যাবে।
এমনিভাবে অসংখ্য কবিতায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন। বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে।
লেখক : প্রভাষক, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার

মন্তব্য
Loading...