জন্মদিনে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে লাশ

৪৯৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনার্সপড়ুয়া কাব্য দাসের ২৫তম জন্মদিন ছিল মঙ্গলবার। বন্ধু কাজী মুশফিক মাহবুব প্রিয়’র সঙ্গে মোটরসাইকেলে বেড়াতে গিয়েছিলেন বেনাপোলে। বিকেলে সেখান থেকে ফেরার পথে যশোরের ঝিকরগাছায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বন্ধু। কাব্য দাসের মা কবিতা দাস ছেলের জন্য রান্না করেছিলেন পছন্দের খাবার। সন্ধ্যায় ছেলে ফিরেছে, তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে। সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা। যশোর শহরের মিশনপাড়ায় কাব্য দাসের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। অপরদিকে সার্কিট হাউজ পাড়ায় কাজী মুশফিক মাহবুব প্রিয়’র বাড়িতেও হৃদয়বিদারক দৃশ্য। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছার বেনেয়ালি গ্রামের গির্জার সামনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী কাব্য দাস (২৫) ও কাজী মুশফিক মাহবুব প্রিয় (৩০) নিহত হয়েছেন। নিহত কাব্য দাস যশোর শহরের মিশনপাড়া এলাকার সংস্কৃতিজন জন দিলিপ দাসের বড় ছেলে ও ঢাকা কর্মাস কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আর কাজী মুশফিক মাহবুব প্রিয় শহরের সার্কিট হাউজ পাড়ার মাহবুবুর হকের ছেলে।
মঙ্গলবার শহরের মিশনপাড়া এলাকায় কাব্য দাসের বাড়িতে ছিল অনেকটা উৎসবের আমেজ। তার কক্ষে জন্মদিনের সাজগোজও করা হয়। করোনার কারণে গতবারের চেয়ে এবারের জন্মদিনের অনুষ্ঠান জাঁকজমক করতে না পারলেও ঘরোয়া আয়োজনের কমতি ছিল না। বাড়িতে বাহারি খাবার রান্নার পাশাপাশি বড় কেক আনা হয়। কিন্তু বিকেলে ঘরের ছেলে ঘরে ফেরেনি। সড়কে লাশ হয়েছে। বাড়ির বড় ছেলেকে হারিয়ে শুরু হয় শোকের মাতম। পাগলপ্রায় মা-বাবাকে সান্ত¡না দিতে ছুটে আসে স্বজন প্রতিবেশীরা।
কাব্যের মা কবিতা দাস বিলাপ করতে করতে বলেন, ফিরে আয় বাবা, ফিরে আয়, বারবার বলেছি গাড়ি আস্তে চালাবি। কথা শুনে না সে। তোমরা আমার সোনারে ফিরিয়ে দাও।
নিহত কাব্যের ছোট ভাই কল্প দাস জানান, করোনা কারণে বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় কাব্য ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন। মাসখানেক আগে মোটরসাইকেল কেনার বায়না ধরেন। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে পরিবারের সামর্র্থ্য অনুযায়ী মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিল তাকে। মঙ্গলবার তার জন্মদিন ছিল। পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে এবার জন্মদিন পালন করার সকল প্রস্তুতি নিয়েছিল মা। সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরলেই কেক কাটাসহ নানা আয়োজনে জন্মদিন পালন করতো সবাই। কিন্তু বন্ধুদের বায়নায় বেনাপোলে ঘুরতে গেছিল। পরিবারের সবাই তার জন্য অপেক্ষা করছিল। বিকেলে ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির একটি ঘাতক কাভার্ডভ্যান কাব্য ও তার আরেক বন্ধুকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহত কাব্য দাসের বাবা জন দিলিপ দাস জানান, ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করার বড় স্বপ্ন ছিল। ক্যান্টনম্যান্ট কলেজ থেকে পাস করার পর তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকার কমার্স কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই থাকতো। করোনার কারণে বাড়িতেই অবস্থান করছিল। মঙ্গলবার তার জন্মদিন ছিল। সকল প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। তার পছন্দের বিভিন্ন খাবার রান্না করেছিল ওর মা। প্রিয় খাবারগুলোও খাওয়া হলো না কাব্যের। এখন শুধু এগুলো স্মৃতি।
অপরদিকে, দুর্ঘটনায় আরেকজন নিহত কাজী মুশফিক মাহবুব প্রিয়ের বাড়িতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের ছোট ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা মাহবুবুর হক।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘাতক কাভার্ডভ্যান ও চালককে আটক করা যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মরদেহের দুটি সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করবে না বলে জানিয়েছে।

মন্তব্য
Loading...