যশোরে আক্রান্তের বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৮.২৬ ভাগ

নতুন আক্রান্ত ৭৬ : সুস্থ ৩৬

১৯৫

এম এ রাজা

যশোরে করোনা আক্রান্ত ৫৮ দশমিক ২৬ ভাগ রোগী সুস্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার জেলায় করোনা রোগী আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। এদিন ৭৬ জনের করোনা পজিটিভ হওয়ায় জেলায় মোট আক্রান্ত হলেন দুই হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ১৭৪ জন। যা মোট আক্রান্তের ৫৮ দশমিক ২৬ ভাগ। এছাড়া ২৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
২৭ জুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায়। ১৩ জুলাই ৯২তম দিনে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। ১২ এপ্রিল যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার একজন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্তের মধ্য দিয়ে এ জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।
যশোর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় ৯ হাজার ৭৫৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ (আইপিএইচ), খুলনা মেডিকেল কলেজ এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৮ হাজার ২৯১টি নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ১ হাজার ৪৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো অপেক্ষাধীন। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দু’হাজার ১৫ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ১৭৪ জন। অবশিষ্ট ৭৮৭ জন আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়র জিনোম সেন্টার থেকে ১৬৬টি নমুনার ফল দিয়েছে। এর মধ্যে ৭৯ জনের করোনা পজিটিভ। দুইজনের ফলোআপ পজিটিভ। এছাড়া একজনের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
আক্রান্ত ৭৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ জন, অভয়নগরে ২ জন, বাঘারপাড়ায় ১০ জন, চৌগাছায় ১১ জন, শার্শায় ৫ জন, মণিরামপুরে ১০ জন, ঝিকরগাছায় ১২ জন ও কেশবপুরে ৯ জন।
আক্রান্তরা হলেন বাংলাদেশ বেতার ও দৈনিক স্পন্দনে কর্মরত ঘোপ এলাকার বাসিন্দা রিমন খাঁন (৫২) ও তার ভাই আশা খান (৬৩), রেলগেটের নাসরিন সুলতানা (৫০), লেবুতলার আব্দুল খালেক (৬০), বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার জাহানারা বেগম (৭৬), রিফাত জাহান খান (৪৪), নিরুপমা বড়াল (৪৭), মৌমিতা বড়াল (২৪), উত্তমকুমার বড়াল (৬৯), মুক্তি চক্রবর্তী (৫০), সুশান্ত দে (৪০) ও অহনা (৩), লোন অফিসপাড়ার শেখ নাইমুদ্দিন (৫৭), লোহাপট্টির শাহনাজ পারভিন (৬০), নূতন উপশহরের খলিলুর রহমান (৬৫), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিজানুর রহমান (৫৫), যশোর মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলাম (৫৮) এবং বারান্দিপাড়ার আব্দুল গনি (৪৭)।
চৌগাছা উপজেলায় শনাক্ত হয়েছেন বিশ্বাসপাড়ার আনিসুজ্জামান (৪৫), কমলাপুরের তানভির আহমেদ (২৫) ও সবুর খান (২৫), সোনালী ব্যাংকের মোতাসিম বিল্লাহ (৩৫), সিংহঝুলির তহিদুল ইসলাম (৩১), গোলহাটির জোহরা বেগম (৫৩), মৃধাপাড়ার আনিসুর রহমান (৫৬), ছোট কাকুঁড়িয়ার ফারুক (৩৫), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমরান হোসেন (৩৯), তারনিবাসের এরশাদ আলী (৭৪) ও রোকেয়া বেগম (৬০) এবং মেহেদী হাসান নামে ঠিকানাবিহীন এক ব্যক্তি।
কেশবপুর উপজেলায় আছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আব্দুল হামিদ (৪২), মেহেদী হাসান রিপন (৩৮), দেবাশিষ দেবনাথ (৪০) ও মিজানুর রহমান (৩৩), সোনালী ব্যাংকের সুমনকুমার রায় (৩০), বেটিখোলার রুহুল কুদ্দুস (৩০), কলেজপাড়ার আহসান হাবিব (২৯) এবং কেশবপুর বাজারের খলিলুর রহমান (৩৮)। এছাড়া কেশবপুরে নমুনা প্রদানকারী মণিরামপুরের হাসান আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তিও করোনায় আক্রান্ত।
অভয়নগর উপজেলায় শনাক্ত হয়েছেন আজিজুর রহমান (৪৮) এবং ভাটপাড়ার তাসকিদুর রহমান (৩৫) নামে দুই ব্যক্তি।
বাঘারপাড়া উপজেলায় শনাক্তদের মধ্যে আছেন জামালপুরের আব্দুল আজিজ (৬০), কয়ালখালির কামাল হোসেন (৪৫), দোহাকুলার হারুন বিশ্বাস (৫০) ও হুমাযুন কবির (৩৮), মহিরনের সজিবুর আলম (৪৪), মোস্তাক হোসেন (৪০), শংকর বণিক (৫২) ও বাবুল গাজী (৫৫), বন্দবিলার মামুনুর রশিদ (৫৬) এবং নারিকেলবাড়িয়ার বেগম ফরিদা (৪৫)।
ঝিকরগাছা উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন সোনাকিরোর কামাল হোসেন (৩৫), লক্ষ্মীপুরের হাসান কাদের (৩৬), কৃষ্ণনগরের মিজানুর রহমান (৫৭), মাসুমা পারভিন (৩১), কাইসান হাবিব (৪), ফাইরুজ মালিহা (১৪), শেখ শাহরিয়ার হাবিব (৩৬), শেখ ইতিহাত ইমাম (৬), তানিয়া আফরোজ (৩৭), শেখ ইমামুল হাবিব (৭০) ও শিফাত শবনম (১৩) এবং মিসরিদিয়াড়ার উম্মে হাবিবা (৪৬)।
শার্শা উপজেলায় আছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফাহিমা খাতুন (৩২) ও শেফালিরানি দাসী (৫৬), বেনাপোলের সাবিকুন নাহার (৩৮) ও আসগর আলী (৫৫), নিজামপুরের দীপ (১৮) এবং গোড়পাড়ার হাবিবুর রহমান (২২)।
মণিরামপুরে উপজেলায় আক্রান্তরা হলেন খেদাপাড়ার রিনা ব্যানার্জি (৫০), চন্দনা ব্যানার্জি (৩২) ও হ্যাপি রায় (৪৫), মণিরামপুর বাজারের হিমাংশু বিশ্বাস (৫৫) ও রেখা সাহা (৬৫), আলতাপোলের তপন পাল (৫৬), কমলাপুরের রামকৃষ্ণ শীল (৬২) ও রীতারানি (৫৪), মোহনপুরের রোজিয়া সুলতানা (৩৮) এবং পাটানের আব্দুর রাজ্জাক (৩৮)।
এছাড়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে যশোরের ৭৯ জনসহ ১৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষণ দলের সদস্য ও এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শিরিন নিগার জানান, যশোরের ১৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৯ জনের, মাগুরার ৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩১ জনের, নড়াইলের ৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের নমুনাতে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে।

মন্তব্য
Loading...