মুখ-পা চেপে ধরে দুজন, চাকু চালায় প্রেমিক নয়ন

বাঘারপাড়ার রেহেনা খুন

0 ২২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের বাঘারপাড়ায় রেহেনার লাশ উদ্ধার মামলায় এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে সাবেক স্বামীর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে তিনজন মিলে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। মুখ-পা চেপে ধরে ইমামুল ও মিন্টু। আর গলায় চাকু চালায় প্রেমিক নয়ন। তারপর লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রেমিক নয়নের পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। বুধবার যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসুর আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে অন্যতম আসামি মিন্টু মোল্লা। তিনি নড়াইল সদরের সিঙ্গিয়া গ্রামের খাজা মোল্লার ছেলে। বিচারক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
গত ২১ মার্চ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা-বামনহাটি কাঁচারাস্তার পাশের একটি পতিত জমিতে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হয় নিহত রেহেনা ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ড উপজেলার চরপাড়া গ্রামের মেয়ে।
জবানবন্দিতে মিন্টু মোল্লা জানিয়েছেন, তিনি ভাংড়ির ব্যবসায়ী। তার আপন মামাত ভাই নয়ন বিদেশ থেকে পাঁচ মাস আগে বাড়িতে এসেছে। নয়নের সাথে ঝিনাইদহের হরিণাকু-ু উপজেলার চরপাড়ার গ্রামের রেহানার প্রেম ছিল। নয়ন ও রেহানা গাজিপুর ছিল। গত মার্চ মাসে নয়ন ও ইমামুল তার (মিন্টু) ইঞ্জিনচালিত ভ্যান নিয়ে মাগুরার আড়পাড়ায় যায়। সেখানে গিয়ে নয়ন রেহানাকে ফোন দিলে আড়পাড়া আসে। নয়ন মিন্টু মোল্লাকে বলেছিল রেহানাকে মেরে ফেলবে। এরপর তারা একসাথে ভ্যানে সীমাখালি হয়ে বাঘারপাড়ার বালিয়াডাঙ্গি বাজারে গিয়ে নেমে যায়। রেহানা ও নয়ন গলা জড়িয়ে ধরে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর নয়ন রেহানার গলা চেপে ধরলে মাটিতে পড়ে যায়। রেহানার মুখ চেপে ধরে ইমামুল। মিন্টু তার পা ধরলে নয়ন চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর নয়ন রেহানার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এরপর তারা রেহানার লাশ ফেলে রেখে চলে যায়। নয়ন নিহত রেহানার মোবাইল ফোন মিন্টুকে ব্যবহার করতে দিয়েছিল। মোবাইলের সূত্র ধরে পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ঝিনাইদহ হরিণাকু-ু থানার চরপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামে মেয়ে রেহানার ১০ বছর আগে নড়াইল সদরের সিঙ্গিয়া গ্রামের মিরাজের সাথে বিয়ে হয়। মিরাজের মানসিক সমস্যা হলে রেহানা তার পিতার বাড়ি চলে আছে। এরমধ্যে রেহানা চাচাত দেবর নয়নের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। মিরাজের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। রেহানা চাকরি নিয়ে লেবাননে চলে যায়। রেহানার উপার্জিত টাকা দিয়ে নয়নকে মালয়েশিয়া পাঠায়। নয়ন চলতি বছরের ২ মার্চ দেশে ফিরে আসে। রেহানার গাজীপুরের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে উঠায় নয়নকে। পরদিন নয়ন বাড়িতে চলে যায়। রেহানা তার স্বামী টুটুলের বাড়ি ফিরে যায়। ১৪ মার্চ রেহানা গাজিপুরের বাসায় থাকার জন্য নয়নকে সাথে নিয়ে চলে যায়। ২০ মার্চ রেহানা গাজিপুরে নয়নের সাথে আছে বলে জানায়। ২১ মার্চ সকালে রেহানা ফোন করে টুটুলকে জানায়, সে ও নয়ন তার বাড়িতে বেড়াতে আসছে। এরপর টুটুলের সাথে রেহানার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এদিন দুপুরে বাঘারপাড়া পুলিশের ফোন পেয়ে থানায় গিয়ে স্বজনেরা রেহানার লাশ শনাক্ত করে। নয়ন ও তার সহযোগীরা রেহানাকে গলা কেটে হত্যা করে বালিয়াডাঙ্গা-বামনহাটি কাঁচা রাস্তার পাশের একটি পতিত জমিতে ফেলে রেখে যায়। এ ব্যাপারে নিহতে মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্তকালে ব্যবহৃত রেহানার মোবাইল ফোনের সন্ধানে নামে পুলিশ। এক পর্যায়ে এ ফোনটি খুলনার তেরখাদার কুশলারচর গ্রামে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে নিশ্চিত হয়। এরপর মঙ্গলবার পিবিআই অভিযান চালিয়ে মিন্টু মোল্লার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে আটক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। বুধবার আটক মিন্টু মোল্লাকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।

মন্তব্য
Loading...