মোবাইল ফোন প্রতারকদের কঠোর শাস্তি চাই

0 ৬৮

মোবাইল ফোন এখন ব্যবহারকারীদের কাছে আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কায়দায় যে ভাবে মোবাইলের মাধ্যমে প্রতারণা, হুমকি, প্রেম উপাখ্যান প্রভৃতি সৃষ্টি হচ্ছে তা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ঠিক এমন সময় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বিকাশ প্রতারকচক্রের ২ সদস্যকে আটক করেছে। তারা স্বীকার করেছে তাদের দলে ৪০-৫০ জন সদস্য আছে। তারা যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, ঢাকা, কুষ্টিয়া, খুলনা ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতারকচক্র সরকারি উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও প্রতারণা করতে ভয় পায় না।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, যশোরের এক ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে প্রতারকচক্র এক মাদরাসার অধ্যক্ষের কাছে নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে বলে মাদরাসার নামে ল্যাপটপ বরাদ্দ আছে। বিকেলের মধ্যে নিতে হবে। আর এজন্য খরচ বাবদ ০১৭০৫-৮১৮২৫৮ নম্বরে আট হাজার টাকা এখনই বিকাশ করে পাঠান। অধ্যক্ষ টাকা বিকাশ না করে সরাসরি ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করে বিষয়টি প্রতারণা বলে জানতে পারেন। এর আগে আর এক মাদরাসায় ১১ টি ল্যাপটপ দেবার নাম করে ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে সুপারের কাছ থেকে ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়। ওই প্রতারক একই কায়দায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ইউএনও পরিচয়ে ফোন দেয়। ওই ফোনে তার স্কুলে ৫৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ দেয়া হবে বলে জানানো হয় এবং সেটি নিতে হলে খরচ বাবদ ৭ হাজার টাকা দিতে হবে। বিষয়টি ইউনও জানার পর পুলিশসহ সবাইকে জানিয়ে দেন কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হয়। এভাবে প্রতারকচক্র তাদের অপতৎপরতা চালিয়েই যাচ্ছে।
এক শ্রেণির প্রতারক বেরিয়েছে, যাদের বিকাশ একাউন্ট আছে তাদের মোবাইলে ওই প্রতারকরা মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে ফোন দিয়ে বলছে ‘নানা জটিলতার কারণে আপনার একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। আপনাকে একাউন্টটি চালু রাখতে হলে আপনার পিন নম্বর বা পাসওয়ার্ড দিন।’ যারা সরল বিশ্বাসে পিন নম্বর দিচ্ছে প্রতারকরা ওই ব্যবহারকারীর একাউন্টের টাকা তুলে নিচ্ছে। আবার এসএমএস আসছে ‘ওমুক লটারিতে আপানার লাখ টাকা, কোটি টাকা বেধেছে, আপনি নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে জমা দিয়ে ওই টাকা তুলে নিন।’ নির্দিষ্ট এই টাকা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার কম নয়। এতেও অনেকে প্রতারিত হচ্ছে।
চাঁদা সন্ত্রাস চলছে বেশ কিছু দিন ধরে। মোবাইলে নিজেদেরকে ভিন্ন ভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের পরিচয় দিয়ে মোটা অংকের টাকা চাওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে ছেলেকে হত্যা করা হবে, মেয়েকে তুলে নেয়া হবে এমন ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আর মোবাইলে প্রেম-পিরিতির কারণে কত তরুণ-তরুণীর যে ভবিষ্যৎ অন্ধাকার হয়ে যাচ্ছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই।
মোবাইল মানুষের অত্যাবশ্যকীয় জিনিসের মধ্যে অন্যতম। এটাকে বাদ দিয়ে চলার কোনো উপায় নেই। এই প্রয়োজনীয় উপকরণটা যাতে নির্বিঘœ হতে পারে সে উপায় বের করতে হবে। এ বিষয়টা নিয়ে সরকারকেই ভাবতে হবে।

মন্তব্য
Loading...