এক মানবতার ফেরিওলা মাহফুজুর রহমান মাসুদ

0 ৯৩

লোহাগড়া প্রতিনিধি

নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন মাহফুজুর রহমান মাসুদ। সরকারি চাকরিজীবী মাসুদ করোনাকালের শুরু থেকে কর্মহীনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যোগ্য সহধর্মিণী হিসেবে তাকে সহযোগিতা করছেন সফল উদ্যোক্তা রোজিয়া সুলতানা চামেলী। তাদের এই নিঃস্বার্থ তৎপরতা এলাকায় প্রসংশিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৮০ সালে লোহাগড়া পৌরসভার মশাঘুণি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাহফুজুর রহমান মাসুদ। তার বাবা শহিদুর রহমান ও মা রোকেয়া বেগম দুজনই শিক্ষক ছিলেন। তিনি লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যলয়ের লেখাপড়া শেষ করে চাকরির সন্ধানে ঢাকায় যান। ২০১২ সালে মাহফুজুর রহমান বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশনে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।
সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী মাহফুজ একজন উদ্যোক্তা হিসেবেও সর্বমহলে পরিচিতি লাভ করেছেন। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন এবং বিসিএস ক্যাডার হতে সহযোগিতা করেন তিনি। তার পরামর্শ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় অনেকেই আজ নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এলাকার অনেক অভিভাবক যখন সন্তানের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত, তখন ক্যারিয়ার স্পেশালিস্ট মাহফুজ তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে আলোর পথ দেখান।
সরকারি চাকরির কারণে সব সময় নিজের জন্মস্থানে আসতে পারেন না। তবে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। তাই ছুটি পেলেই ছুটে আসেন নিজের শহরে। অসহায় ও দরিদ্রদের খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এলাকায় খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও মাদকবিরোধী কর্মকা-ে মাহফুজ সব সময় পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
স্থানীয়রা জানান, গত মার্চ মাস থেকে দেশে করোনা হানা দিলে মাহফুজ-চামেলী দম্পতি এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। ইতিমধ্যে তিনি আট টন চাল বিতরণ করেছেন। দিয়েছেন ঈদ উপহার। বিতরণ করেছেন বিপুল পরিমাণ মাস্ক, হ্যন্ড স্যানিটাইজার, এক বছর বয়সী শিশুদের মাঝে শিশুখাদ্য। পৌর এলাকার সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, কর্মহীন নরসুন্দর, চা দোকানি ও দুইশতাধিক স্বেচ্ছাসেবীদের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করে সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত মানুষের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন ঝুঁড়ি ভর্তি ফল।
মাহফুজের এ মহতি কাজের সঙ্গী তার সহধর্মিণী রোজিয়া সুলতানা চামেলী। তিনি যশোর মহিলা কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেছেন। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আনিসা এন্টারপ্রাইজ ও আদৃতা প্রকাশনীর কর্নধার তিনি। সংসার দেখাশোনার পাশাপাশি তিনিও অসহায় মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ।
মাহফুজ-চামেলী দম্পতির জনসেবামূলক কর্মকা- নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান মন্তব্য করেন, ‘যোগ্য বাবা-মা’র যোগ্য সন্তান। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের গর্ব’ এবং ঢাকা জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র জজ তসরুজ্জামান বলেন, ‘মাহফুজ একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভালো সংগঠক ও মেধাবী চিন্তার মানুষ।’
লোহাগড়ার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বলছেন, মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাঝে। বিনয়ী, আত্মপ্রত্যয়ী ও সৃজনশীল মাহফুজ-চামেলী দম্পতির মানবিক কার্যক্রম আলোকিত সমাজ গঠনে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

মন্তব্য
Loading...