নিয়মের নামে দায় এড়ানোর কৌশল নিন্দনীয়

0 ৫১

করোনার বিষয়কে কেন্দ্র করে সরকারিভাবে প্রণীত নিয়ম-নীতিতে হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। আর তা জনসাধারণের কষ্টের কারণ হলেও প্রশাসনের চোখে পড়ছে না অথবা অবহেলা ও উদাসীনতায় দেখছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার পর শর্তসাপেক্ষে খুলে দেয়া হলো। এর পেছনে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ ছিল। শর্ত হলো গণপরিবহনে আগের মতো গুড়গাদা অবস্থায় যাত্রী ওঠানো যাবে না। এজন্য মালিকদের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হলো। জনসাধারণ এ ব্যাপারে বাদ-প্রতিবাদ না করে ভালোভাবেই তা মেনে নেন। তবে তারা আশঙ্কা করেছিলেন অবস্থা স্বাভাবিক হলে এই বর্ধিত ভাড়া আগের জায়গায় ফিরবে না। শুধু তাই নয়, কিছু দিন পর এ শর্ত ভঙ্গ করে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অধিক যাত্রীও তুলবে এবং বর্ধিত ভাড়াও আদায় করবে। অল্পদিন না যেতেই জনসাধারণের সেই আশঙ্কা বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছে।
দৈনিক প্রতিদিনের কথা এমনই বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসে এক সিটে একাধিক যাত্রী বসানো নিষেধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। অর্থাৎ বর্ধিত ভাড়া ঠিক নেয়া হচ্ছে এবং এক সিটে একাধিক যাত্রী বসানোতো হচ্ছেই তার ওপর দাঁড় করানো যাত্রী তুলে বাসের ভেতরকার অবস্থা আগের সেই গুড়গাদা পরিস্থিতি করে তুলছে। এ বিষয়ে কোনো যাত্রী আপত্তি করলে তাকে নাজেহাল করা হচ্ছে। সব চেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনলে তারা নিয়মের নামে যা দেখাচ্ছে তাতে প্রকারান্তরে পরিবহন মালিকদের পক্ষে যাচ্ছে এবং জনসাধারণের পকেট কাটার স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে। একজন সাংবাদিক বিষয়টি পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে জানানোর পরামর্শ দেয়। ওই সাংবাদিক অধিদফতরের সহযোগী কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রতিনিধির স্মরণাপন্ন হন। ওই প্রতিনিধি লিখিতভাবে আবেদন করতে বলেন।
পরিস্থিতি যা তাতে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ ও বাড়তি ভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রে যে কিছুই হবে না তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিয়মের নামে দায় এড়ানোর এ কৌশল নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জানার বিষয় হলো, এক তরফাভাবে বাড়তি ভাড়ার বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে এখন অনিয়ম প্রতিরোধে আবেদন করতে হবে কেন? ভাড়া বাড়ানোর সময় কি জনসাধারণ ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করেছিল? স্বাস্থ্য বিভাগ মাস্ক পরার ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এজন্য কি কারো কাছ থেকে কি আবেদন নিয়েছে নাকি কারো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছে? একটি নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। এটাই নিয়ম। দায়িত্ব পালন না করে বাঙালির নিয়ম শেখাতে বসেছে। আর এ দিকে প্রবর্তিত নিয়মে জনগণের পকেট উজাড় হচ্ছে। অতএব যারা কাজটি করেছে তাদেরকেই তা প্রতিহত করতে হবে। গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে গণরোষ কিন্তু সৃষ্টি হচ্ছে। করোনা ঠেকানোর নামে কর্মচারীদের ছুটি দেয়া হলো। তারা বাড়িতে বসে আরামছে বেতন তুলছে আর ফুর্তি মেয়ে খাচ্ছে। চা, সবজি, মুদি দোকান প্রভৃতি সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান খুললে ভেঙে দেয়া হচ্ছে বা জরিমানা করা হচ্ছে। কর্মচারীরা ছুটিও পান আবার বেতন-প্রণোদনাও পান, কিন্তু এসব ব্যবসায়ীরা কি করে বাঁচবে তা কেউ ভাবেনি ভাবছে না আর ভাববেও না। আমরা জনস্বার্থেও বিপক্ষে নই। কর্মচারীর সংখ্যা হাতে গোনা। কিন্তু সাধারণ মানুষের সংখ্যা অসীম। বৃহত্তর এ মানুষের স্বার্থে কথা ভাবতে হবে। জনগণ একবার ফুঁসলে অবস্থা ভালো থাকবে না।

মন্তব্য
Loading...