করোনাকালে খেলোয়াড়দের পাশে নেই যশোর ডিএসএ ও ডিএফএ

0 ২২৫

এম এ রাজা

যশোর জেলা ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজু। টিমের বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেছেন বহুবার। দলকে জিতিয়ে কর্মকর্তাদের মুখ উজ্জল করেছেন। কিন্তু করোনাকালের বিপদের সময়ে কেউ খোঁজ নেয়নি এই ক্রিকেটারকে। শুধু রাজু নয় গতবছর বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের দুটো শিরোপা এনে দেয়া খেলোয়াড়দেরও কোন খোজ নেয়নি যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা।
শুধুমাত্র যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা নয় জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (ডিএফএ) করোনাকালে খেলোয়াড়দের পাশে নেই। তবে এই দুই সংগঠনের শীর্ষ কর্তারা খেলোয়াড়দের পাশে না থাকার কথাটি অস্বীকার করেছে।
ক্রিকেটার রাজু বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলি। এছাড়া আমাদের অনেকে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলে। হয়তো আর্থিক সমস্যা নেই। কিন্তু মানসিক একটা সাপোর্ট দরকার হয়। এখনকার সময় প্র্যাকটিস কি করবো বা ফিট থাকার জন্য কি করবো। তা কেউ কখনো বলেনি। এমন কি ব্যক্তিগতভাবে কেমন আছি তাও খোঁজ নেয়নি। তবে সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেটাররা আমাদের কাছে এই সব কথা বলে।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহি সদস্য এহসানুল হক সুমন বলেন, আমার জানামতে বর্তমানে জেলা দলের কোন খেলোয়াড় খারাপ নেই। খুলনা বিভাগীয় দলের যারা খেলে তারা আর্থিক দিক অনেক ভাল আছে। আর যারা জুনিয়র তাদের তো বাড়িতে অভিভাবক আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা দলের মাঝ মাঠের এক খেলোয়াড় বলেন, এলাকার মাঠে ব্যক্তিগতভাবে প্রাকটিশ করছি। ফিট থাকার জন্য হালকা ব্যায়াম করছি। আজ পর্যন্ত (মঙ্গলবার) কেউ কোন দিন খোজ নেয়নি। কোন সাহায্য ও সহযোগিতাও পায়নি বলে জানান।
তবে এই কথা অস্বীকার করেছেন যশোর জেলা দলের ম্যানেজার ও ডিএফএ’র নির্বাহি সদস্য আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, নিয়মিত না হলেও জেলা দলে যারা খেলে তাদের খোঁজ খবর নিয়েছি। এছাড়া রমজানের ঈদের আগে খেলোয়াড়দের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। এমনকি জেলা কয়েকজন কোচকেও ডিএফএ’র পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু বলেন, দান সব সময় গোপনে করতে হয়। ডিএফএ’র পক্ষ থেকে শুধুমাত্র ফুটবল খেলোয়াড়ই না, ফুটবলের বাইরেও অনেক খেলোয়াড়দের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির বলেন, নির্বাচনের পর করোনা শুরু হয়েছে। আমরা সবাই একসাথে বসতে পারেনি। তবে করোনার সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও রেডিয়্যান্ড ফার্মাসিটিক্যাল পক্ষ ২০ কেজি চাল, ডাল, তেল সাবান দেয়া হয়েছিল ১০০ এর অধিক খেলোয়াড় সংশ্লিষ্টদের।

মন্তব্য
Loading...