এলাকাবাসির স্বার্থবিরোধী চক্রান্ত প্রতিহত করতে হবে

0 ৯৪

যশোরের চৌগাছা উপজেলার বিল এড়োলের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ অবৈধ বাঁধের কারণে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অথচ পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল আছে। এই খালটি এলাকার দুইজন লোক বন্ধ করে দিয়ে মাছ চাষে মেতেছে। মাত্র দুজনের ব্যক্তি স্বার্থে খালটি বন্ধ করে দেয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাশাপোল ইউনিয়েনের গোপিনাথপুর, বড়কুলি, দশপাখিয়া, রঘুনাথনগর, মৎস্যরাঙ্গা ও বুড়িন্দিয়া গ্রামের কয়েকশ’ বিঘা জমি পানির নিচে ডুবে আছে। এ কারণে আসন্ন আমন মৌসুমে চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসারকে বললে তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। এলাকাসি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার খেয়াল ছিল না। এলাকার সমস্যার বিষয়ে পাশাপোল ইউপি চেয়াম্যান ভূমি অফিারকে বললেও তিনি কোন গুরুত্ব দেননি। এদিকে ওই খাল এলাকার গ্রামের মানুষ সীমাহীন সমস্যায় পড়েছেন। দৈনিক প্রতিদিনের কথা সমস্যার কথা ১৯ জুলাইয়ের সংখ্যায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বিলটিতে উৎপাদিত ফসলের ওপর নির্ভর করেই চলে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা। বিলের পানি ওই খাল দিয়ে বুকভরা বাঁওড়ের মাধ্যমে কপোতাক্ষ নদে নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের এত সুযোগ থাকতেও বিলের পানি না সরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খালে মাছ চাষের জন্য এলাকার প্রভাশালী ওই দুইজন অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ দেয়ায় পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে পানি বিলে উঠে আজ পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত তো হচ্ছেই তার ওপর তাদের আবাদ-ঘাট করার সব সুযোগ নষ্ট হয়ে গেছে।
গুটি কয়েক প্রভাশালী ব্যক্তির স্বার্থের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এলাকার মানুষের অবস্থা না বুঝে যা ইচ্ছে তাই করবে তা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। বিভিন্ন এলাকাকে জলাবদ্ধাতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা ঢালছে আর এক শ্রেণির মানুষ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করবে তা হতে পারে না। এমনিতেই সংশ্লিষ্ট এলাকা নিম্নভূমি। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সব শ্রেণির মানুষ এই জলাবদ্ধাতা নিরসনের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন আসছেন। এ অবস্থায় কী করে যে খালে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ আটকে দেয়া হয়েছে তা ভাববার বিষয়। এক দিকে এলাকার খাল নদী, সব সংস্কার করে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা হচ্ছে আর এক দিকে পানি নিষ্কাশনের বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দেশটা একটি আইনের গ-ীতে চলছে নাকি ফ্রি স্টাইলে চলছে। এ সব দেখে মানুষ বাঁচানোর কর্মসূচি নিতে হবে। মানুষকে বিপদের মধ্যে ফেলে ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের কোনো যুক্তি নেই। আমরা চাই মানুষ বাঁচিয়ে রেখে মানুষের স্বার্থে সব কিছু করা হোক।

মন্তব্য
Loading...