জীবননগরে কুরবানিযোগ্য পশু দুশ্চিন্তায় আড়াই হাজার খামারি

0 ৪৪

আতিয়ার রহমান, জীবননগর

করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গরুর খামারিরাও বিপাকে পড়েছেন। পশুহাটগুলোতে বেপারিদের নেই তেমন আনাগোনা। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পশুহাটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাটগুলোতে কড়াকড়ি আরোপের কারণে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার খামারি ও মৌসুমি গরু ব্যবসায়ী।
জীবননগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, অন্যান্য বছরের মতো এবারও জীবননগর উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার খামারে ৭ হাজার ৬৩৫টি গরু, বসতবাড়ি ও খামারে ৩৮ হাজার ১৬৪টি ছাগল, ২৩টি মহিষ ও ৯২টি ভেড়াসহ মোট ৪৫৯১৪টি পশু বাণিজ্যিকভাবে মোটাতাজাকরণ হয়েছে পশুহাটে বিক্রির জন্যে। কিন্তু অন্য বছর কুরবানির এক মাস আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা খামারি কিংবা গরু পালনকারীদের বাড়ি বাড়ি আসতেন আর দরকষাকষি করতেন। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ক্রেতা নেই বললেই চলে। ফলে বড় বিপাকে পড়েছেন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে তোলা গরুর খামারিরা।
বৃহত্তম পশুহাট জীবননগরের শিয়ালমারী। এ হাটে কুরবানির এক মাস আগে থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেপারিদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এবার এলাকার বেপারিদেরও কোনো তৎপরতা তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলার লক্ষীপুরের খামারি আবুল বাসার বলেন, অন্য বছর ঈদের মাসখানেক আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আমার গরু কেনার জন্যে নানাভাবে যোগাযোগ করা হতো। কিন্তু এবার তেমন কেউই গরু কেনার জন্যে যোগাযোগ করছেন না।
উপজেলার পিয়ারাতলার গরুর খামারি শাহজান মিয়া বলেন, করোনার কারণে হাটগুলোতে বেপারিও নেই। আবার দামও নেই।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুর আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার পশুহাটের প্রতি সরকারের বিধিনিষেধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। অনলাইনের মাধ্যমে গরু-ছাগল বিক্রির ব্যাপারে আমরা নানাভাবে সহযোগিতা করছি।

মন্তব্য
Loading...