যশোর-৬ আসনে নৌকা প্রতীকের শাহীন চাকলাদার বিজয়ী

১৮২

উৎপল দে, কেশবপুর

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যশোর-৬ কেশবপুর আসনের উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মঙ্গলবার এই আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। কেশবপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার বজলুর রশীদ ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহীন চাকলাদার ১ লাখ ২৪ হাজার ৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ১২ ভোট। তবে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন বর্জন করায় মাঠে ছিলেন না আবুল হোসেন আজাদ। অপর প্রার্থী জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান লাঙল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭৮।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে এই ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলেছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় গণনা। কেশবপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার বজলুর রশীদ ঘোষিত ফলাফলে জানান, কেশবপুর আসনে মোট ২ লাখ ৩ হাজার ১৮ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ১ হাজার ৩৭৪ ভোট। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহীন চাকলাদার নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩ ভোট, বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ১২ ভোট ও জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান লাঙল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭৮। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে  ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সংশয় ছিল। এই শংকা থেকে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।  মহামারির এই সময়ে ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।

অন্তত ১৫টি ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটাররা স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরুত্ব মেনেই ভোট দিচ্ছেন। কেন্দ্রের বাইরেও উৎসমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সম্প্রতিকালে ভোটের মাঠের চিত্র অনেকটা ভিন্নতা এনেছে উপনির্বাচন। তুলনায় বেশি ভোটার উপস্থিত লক্ষ্য করা গেছে।  ভোট কেন্দ্রে মহিলা ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দুটি স্থানে রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত পানি ও সাবান। সব ভোটাররাই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সবার মুখে মাক্স পরা। ভোটারদের লাইন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে।
উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও যশোর জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ন কবির  জানান, ৭৯টি কেন্দ্র ৩৭৪টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ৬০ ভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যথাসময়ে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরো জানান,  ভোটগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত ছিলো। নির্বাচনী এলাকায় দুইজন জুডিশিয়াল ও ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন। ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিলো। ১৮টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের ছয়টি টিম নির্বাচনের মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।
হাবাসপুর কেন্দ্রের  ভোটার মাহবুবা (৪০) বলেন’ করোনাভাইরাসের কারণে তিন মাস পর বাড়ি থেকে বের হয়েছি। অনেক পরিচিত জনের সাথে দেখা হয়ে খুব ভালই লাগছে।’
হাসানপুর গ্রামের মসিউর রহমান বলেন’ করোনা ভাইরাসের  কথা বলে বিএনপির ভোট বর্জন ঠিক হয়নি। আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট দিচ্ছি।  একাধিক  প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে এসেছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধি  মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহীন চাকলাদার বলেন, ভোটাররা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট দিচ্ছেন। খুব ভালো লাগছে। ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। আওয়ামী লীগ সমার্থক কর্মী নেতা ও সাধারণ মানুষ ভোট দিতে এসেছেন। জয়ী হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহায্যে কেশবপুর একটি শান্তি ও উন্নয়নের জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম হাবিবুর রহমান জানান, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক। স্বাস্ত্যবিধি মেনেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সংসদ সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য হয়। এরপর উপ-নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৯ মার্চ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তার এক সপ্তাহ আগে করোনার কারণে ২২ মার্চ ওই নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। তফশিল অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে বিএনপির দলীয় সিন্ধান্ত অনুযারী ৫ জুলাই ভোট বর্জন করেন।
মন্তব্য
Loading...