জীবননগরে বৃদ্ধা মায়ের জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ

৪৩

জীবননগর প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কাশিপুর মাঠপাড়ায় বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার জমি গোপনে রেজিস্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নিজ ছেলের বিরুদ্ধে। বৃদ্ধা আমিরন নেছা (১০০) ওই জমি তার মৃত ছেলে থেকে পেয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের কাশিপুর মাঠপাড়ার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে বোরহান উদ্দিন বলেন, প্রায় দু’বছর আগে আমার বাবা মারা যান। আমার দাদি আমিরন নেছা এখনও বেঁচে আছেন। তার বয়স ১০০ বছরের ওপরে। আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আমার দাদি হিস্যা অনুযায়ী ৩১.৩০ শতকের মালিক। কিন্তু আমার চাচা মানিক আমাদের সবাইকে গোপন করে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানসিক ভারসাম্যহীন দাদিকে চিকিৎসার নামে জীবননগর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে ৬ জুলাই ওই জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। (জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১৯০৫) দাদিকে আমরা সবাই মাসওয়ারি ভরণ-পোষণ দিয়ে থাকি। আমার চাচা মানিক আসলে আমাদেরকে বসতভিটার জমি থেকে উচ্ছেদ করতে এবং নিজে লাভবান হতে আমার পৈতৃক সম্পত্তি হলেও আমাদেরকে কোন সুযোগ না দিয়েই তিনি গোপনে পুরো জমিই আত্মসাৎ করেছেন। আমার দাদি ঠিকমত কথাবার্তা বলতে পারে না, চলাচলে অক্ষম তাহলে এত সহজে তার জমি রেজিস্ট্রি হল কিভাবে?
অভিযুক্ত মানিক বলেন, আমার ভাই গোলাম মোস্তফা মারা যাওয়ার আগে মায়ের নামের আড়াই বিঘা জমি তার নামে লিখে নেয়। আমার সেই মা-ই সেই ভাইয়ের নিকট থেকে পাওয়া মাত্র এক বিঘা জমি আমাকে দিয়েছে। গোপনে নয় আমার কিছু নেই তাই আমার অন্য ভাইয়ের সাথে আলোচনা করেই জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে। আমার মায়ের বয়স প্রায় ১০০ বছর এবং প্যারালাইজড এ আক্রান্ত। তবে কথাবার্তা স্বাভাবিকভাবে বলতে পারে।
কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু বোরহানের দাদি তো চলাফিরা করতে ও ভালভাবে কথাবার্তাও বলতে পারে না, তাহলে তার জমি রেজিস্ট্রি হলো কিভাবে বুঝলাম না! তবে নিজেদের মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আলোচনা করা যেতে পারে।

মন্তব্য
Loading...