বেহালে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য সামটা-নায়ড়া সড়ক

২০৮

বাঁকড়া প্রতিনিধি

যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নায়ড়ায় আসেন। এ স্থানটির অবস্থান যশোরের ঝিকরগাছায়। এখানে আসার পর তিনি নায়ড়া বাজার মসজিদে আসরের নামাজ পড়েন।
তিনি মসজিদের সামনে স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে আধা ঘণ্টা মতো ভাষণ দেন। টিনের চোঙা মুখে লাগিয়ে তিনি বাঙালি জনগণের ওপর পাকিস্তানিদের নির্যাতন-জুুলুমের বর্ণনা দেন। নির্যাতন-জুুলুম প্রতিরোধে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে ভোট চান। তখন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন যশোরের চৌগাছার সিংহপুরুষ মশিয়ুর রহমান (পরে শহিদ) ও ঝিকরগাছার ডাক্তার জি সরওয়ার। সভা পরিচালনা করেছিলেন আবুল ইসলাম (পরে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন)।
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী ইউনিয়ন এবং ঝিকরগাছার উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের মধ্যের সংযোগ স্থাপনকারী সামটা-নায়ড়া সড়ক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন এই পথে নায়ড়ায় এসেছিলেন, তখন রাস্তাটি ছিল কাচা। বর্ষাকালে সড়কে জমে থাকতো হাঁটুসমান কাদা। তখন সামটা অদূরে দেউলিয়া এলাকায় রাস্তার মাঝে বেত্রাবতী নদীর ওপর ছিল বাঁশের সাঁকো। এখন রয়েছে স্টিলের বেইলি ব্রিজ। ৬৬ বছরে সেই একইরকম রয়েছে সড়কটি। তার নেই কোন পরিবর্তন।
এলাকাবাসী খন্দকার উজ্জ্বল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এই রাস্তাটি পাকা হোক তা এলাকার সকলেরই দাবি। আমরা কয়েকদফা ইউপি মেম্বার- চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।
খন্দকার বজলুর রহমানের দৌহিত্র খন্দকার জিল্লুর রহমান ও খন্দকার মহিবুর রহমান পায়েল বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের এই অজপাড়াগাঁয়ে সেসময় যেভাবে কাচা রাস্তা দিয়ে এসেছিলেন এখনও গ্রামের লোকজনকে সেই পথে একইভাবে যেতে হয়। আমরা চাই, এই সড়কটি পাকা হোক। সড়কের নামকরণ আমাদের দাদার (খন্দকার বজলুর রহমানের) নামে করা হোক।
শংকরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, এই এলাকাটি অবহেলিত। আমরা চাই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এই এলাকাটির উন্নয়ন হোক। তিনি যেখানে ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ১৯৯৭ সালে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র।
এলজিইডির ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার বসু বলেন, রাস্তাটা পাকাকরণ কাজের জন্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে । কাজ হতে হয়তো সময় লাগবে।

মন্তব্য
Loading...