জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তায় মেসেঞ্জার ইনবক্সে জট করেছিল: সৈয়দ রাসেল

১৫৪

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জাতীয় দলের সাবেক পেসার সৈয়দ রাসেল। বোলিং-এ একটা ভিন্ন স্টাইল ছিল তার। মিডিয়াম পেসের সাথে দুর্দান্ত সুইং এর কারণে ভড়কে যেত যেকোনো দানবীয় ব্যাটসম্যান। সুইংয়ে অসাধারণ দখল এ বোলার এক সময় ছিলেন দলের অপরিহার্য সদস্য। খেলার শুরুতে ব্রেকথ্রু এনে দেয়া ও রান কম দেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার। সময়ের যে কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সেসময়ে বেশ ভালো ক্রিকেট শৈলী উপহার দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেটে বাঁহাতি পেস বোলিংয়ের রোমাঞ্চ প্রথম দেখিয়েছিলেন রাসেলই।
শুক্রবার ৩ জুলাই ছিল সৈয়দ রাসেলের জন্মদিন। খেলা ছেড়ে কোচিং সাথে যুক্ত হয়েছে বর্তমানে। বর্তমানে খেলাধুলা না থাকায় নিজের সৈয়দ এগ্রো ফার্মে দিন কাটছে তার।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে রাসেলকে ফোন করে এই প্রতিবেদক। সেই সময় জানালেন বর্তমানের ব্যস্ততার কথা। রাসেল বলেন, এমনিতে জন্মদিনে কোন অনুষ্ঠান করি না। তারপরে করোনাকাল। আবার আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ফার্ম মেরামত কাজ করছি। তবে দুপুরের একবার মেসেঞ্জারে ঢুঁ মারছিলাম। প্রায় একঘন্টা জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছি। বলা যায় মেসেঞ্জার জট করেছিল। কয়েকজনকে রিপ্লাই দিয়েছে। আর জন্মদিনে যারা শুভেচ্ছা বার্তা ও ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছে সকলের প্রতি আমার ভালবাসা রয়েছে জানান সাবেক এই পেসার।
সৈয়দ রাসেলকে বলা হতো ‘বাংলার চামিন্দা ভাস’। বোলিং অ্যাকশন এবং বল সুইং করানোর দারুণ দক্ষতা থাকায় তাকে এমন খ্যাতি দেওয়া হয়েছিল। এই রাসেলই জাতীয় দলে অভিষেকের আগে অস্ট্রেলিয়ায় বিসিবি’র এক প্রশিক্ষণ সফরে গ্রেট অজি ব্যাটসম্যান জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে পরপর ৪ বার আউট করেন। মূলত ল্যাঙ্গারই প্রথম রাসেলকে লঙ্কান গ্রেট চামিন্দা ভাসের সাথে তুলনা করেন।
২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ২০০৭ সালে টেস্ট ২০১০ সালে শেষ ওয়ানডে খেলেছেন। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির সঙ্গেই ক্রিকেটে তাঁর যাত্রা শুরু। তাদের বন্ধুত্বও বেশ মজবুত।
ছোট বেলা থেকেই ক্রিকেটই তাঁর ধ্যানধারণার প্রতীক হয়ে কাজ করেছিল, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছিলেন খুলনা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগের হয়ে। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে ৬৬টি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচে ১৮৫ উইকেট, ১১১ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ১২৯ উইকেট এবং ঘরোয়া টি- টোয়েন্টি লিগে ১৭ ম্যাচ খেলে ১২ উইকেট অর্জন করেছেন রাসেল।
ছয় বছরের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে ৫২ টি একদিনের ম্যাচ খেলে ৬১ টি মহামূল্যবান উইকেট ছিল তাঁর ঝুলিতে। খেলেছেন একাধিক টেস্ট ম্যাচও। অভিষেক ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সাথে ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ২ উইকেট।
বগুড়ায় শ্রীলঙ্কার সাথে জয়ের দিনে তিনি ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন এর মধ্যে মেইডিন ছিল দুই ওভার। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে ভারত কে হারানোর ম্যাচে ১০ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রাসেল। যার কারণে ভারত বেশি রান করতে পারেনি। সেই বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকার সাথে ও খুব ভালো খেলেন তিনি। ওই ম্যাচে ও তিনি ২ উইকেট নেন ৪১ রানে। জোহানেসবার্গে ২০০৭ টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ওভারেই ক্রিস গেইলকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়েছিলেন বিরাট ধাক্কা। ক্রিকেটের ছোট দৈর্ঘ্যে বড় দলের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম জয় সেই ম্যাচেই।

মন্তব্য
Loading...