চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পুরনো এক্সরে মেশিন রং করে সরবরাহ!

২৯১

চৌগাছা প্রতিনিধি

যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে মেশিন ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এই দুর্নীতির কথা জানান।
জানা যায়, এডিবির বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন সংযোজন করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরকে এন্টারপ্রাইজের যোগসাজশে নতুন পোর্টেবল এক্সরে মেশিনের পরিবর্তে একটি রিকন্ডিশন এক্সরে মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, আমি একজন ডাক্তার হিসেবে এসব মেশিন আমার সর্বাধিক পরিচিত। আমি কেনো, যে কেউ দেখেই বুঝতে পারবে এটি নতুন নয়। একটি পুরাতন মেশিন রং করে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বলেন, আমার এক্সরে অপারেটর ও স্টোরকিপার বলল, মেশিনটি ঠিক আছে। তাদের কথামত আমি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। এটা আমার ভুল হয়েছে।
এক্সরে অপারেটর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মেশিনটি সচল আছে। কিন্তু নতুন নাকি পুরাতন মেশিন স্থাপন করা হবে সেবিষয়ে আমি কিছু জানি না।
হাসপাতালের স্টোরকিপার ইমরান হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো কাগজপত্র দেয়নি বলে আমি এক্সরে মেশিনটি রিসিভ করিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, কিভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেশিনটি গ্রহণ করলেন আমার মাথায় আসছে না। নতুন মেশিনের পরিবর্তে পুরাতন মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। আবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিভাবে প্রত্যয়নপত্র দিলেন বুঝতে পারছি না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মেশিন ক্রয়ের সম্পূর্ণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি রাজিও হয়েছেন।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, চৌগছা উপজেলা মডেল হাসপাতালকে আরো অত্যাধুনিক করতে এবং উপজেলার মানুষের উপকারের জন্য একটি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন ক্রয়ের জন্য এডিবির বরাদ্দ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। শুনছি একটি পুরাতন মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। দুর্নীতিকারী যেই হোক তিনি রেহাই পাবেন না।
সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরএকে এন্টারপ্রাইজের মালিক কবির হোসেন বলেন, পুরাতন যে এক্সরে মেশিনটি স্থাপন করা হয়েছে, এই ধরনের একটি নতুন মেশিনের দাম ১৫ লাখ টাকা। এডিবির বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এই মেশিন ক্রয় করা সম্ভব না বলে জানান তিনি।

মন্তব্য
Loading...