বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ : ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

৬১

বেনাপোল প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়নি। বেনাপোল বন্দরে তিন মাসের অধিক সময় ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির দাবিতে এ এলাকার রপ্তানিকারক সমিতি একজোট হয়ে বুধবার সকাল থেকে এ পথে ভারতীয় মালামাল আমদানি বন্ধ করে দেয়। তবে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় সহ¯্রাধিক পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকা পড়েছে দুই দেশের বন্দরে। ভারতের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলছেন, আমদানি হলে রপ্তানি হতে বাধা কোথায়। যে প্রক্রিয়ায় আমদানি হচ্ছে সে একই প্রক্রিয়ায় রপ্তানিও চলুক।
করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় ‘নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে গত ২২ মার্চ থেকে ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য গ্রহণ করছে না। তবে ৭ জুন থেকে ভারত বেনাপোল বন্দরে আমদানি চালু করলেও রপ্তানি পণ্য নিচ্ছে না। ফলে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি। বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রপ্তানিকারকরা। বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। দেশে স্থলপথে যে রপ্তানি হয় তার ৭০ শতাংশ হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতি বছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ৯ হাজার টন বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। এখন এ বন্দর দিয়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা।
বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতীয় চালকেরা পণ্য নিয়ে বেনাপোলে ঢুকতে পারলে বাংলাদেশি চালকেরা কেন পেট্রাপোলে বন্দরে প্রবেশ করতে পারবেন না? তাদের দাবি, বেনাপোল বন্দর এলাকা এখন করোনামুক্ত, গ্রিনজোনে রয়েছে। ফলে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। ট্রাক চালকেরা সুরক্ষা পোশাক পরেই ভারতে যাবেন এই প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও কোনো কথায় কর্ণপাত করছে না ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল থেকে পেট্রাপোলে ট্রাক প্রবেশের সবুজ সঙ্কেত না মেলা পর্যন্ত ভারতের ট্রাককেও বেনাপোল বন্দরে ঢুকতে দেয়া হবে না।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেট্রাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীরাও চাইছেন, বেনাপোল থেকে পণ্য আমদানি শুরু হোক। পেট্রাপোল এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পরিতোষ বিশ্বাস বলেন, বেনাপোল থেকে পণ্য রপ্তানির কাজ এই মুহূর্তেই শুরু হোক। না হলে বহু ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকারও। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ শুরু হোক দ্রুত।
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দর খোলা আছে। বাণিজ্য সচলের জন্যে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মন্তব্য
Loading...