বিত্তবানরা উদারচিত্তে এগিয়ে আসুন

৪৪

‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’ আত্মত্যাগের এক কালজয়ী বাণী কবিতায় ফুটে উঠেছে। এ কবিতার সূত্র ধরে যশোরের বেনাপোলবাসী কি সাড়া দিতে পারে না বেনাপোল পৌরমেয়র আশরাফুল আলম লিটনের আবেগঘন স্ট্যাটাসে। বেনাপোলে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু দাতা সংস্থা সম্পূর্ণ অর্থ না দেয়ায় হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। যার ফলে বেনাপোলবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পৌরমেয়র তাঁর স্ট্যাটাসে বলেছেন, আমাদের প্রিয়জন আপনজনরা চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন। আজ আমি আপনজন হারাচ্ছি, কাল আপনি হারাবেন, পরশু আর একজন। আমরা যদি সবাই মিলে উদ্যোগ গ্রহণ করি তাহলে ১০টি বেড, ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও একজন ডাক্তারের ব্যবস্থা করা কোনো কঠিন কাজ নয়। তিনি সবার প্রতি হৃদয় বড় করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থ, যৌবন, সৌন্দর্যশক্তি চিরস্থায়ী নয়। আমাদের মৃত্যুর পর সব সম্পদ পড়ে থাকবে। কোনো কাজে লাগবে না।
মানুষ মানুষের জন্য। পৌরমেয়র তাঁর স্ট্যাটাসে যা বলেছেন তা আবেগঘন হলেও অতিরঞ্জিত কিছু নয়। ১০টি বেড আর ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে দেবার মতো বিত্তবান মানুষের অভাব দেশে নেই। আমরা মনে করি, বেনাপোলেই এমন বিত্তবান মানুষ আছেন। পৃথিবীর সব মানুষ কোনো না কোনো ধর্মে বিশ্বাসী। ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে ইহকালে কল্যাণকর কিছু করা হলে পরকালে তার সুফল পাওয়া যায়। ইসলামী পরিভাষায় সদকায়ে জারিয়া হয়। অর্থাৎ ওই ভালো কাজটি যতদিন থাকে ততদিন পুণ্য হতে থাকে যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরকালের পাথেয়। আবার যারা মানবতাবাদী তারাও মানুষের সেবায় অর্থ ব্যয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ধর্ম ও মানবতার বাণীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের সেবায় সাড়া দিলে মানুষের কল্যাণের সাথে নিজেদেরও ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ হবে।
স্বাস্থ্যসেবার একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতায় সেটি চালু না হওয়া দুঃখজনক। মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ পৌরমেয়র আশরাফুল আলম লিটন যে আহ্বান জানিয়েছেন তাতে বিত্তবান ব্যক্তিরা উদারচিত্তে এগিয়ে আসবেন বলে আমরা তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাবো। মানুষ বাঁচানোর স্বার্থে হাসপাতালটি চালু হবার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যদি বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যায় তাহলে বেদনার একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে। সেই সাথে দাতা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করবো অর্থ না দেবার ক্ষেত্রে যে জটিলতাই থাকুক না কেন মানুষের স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে তা অতি দ্রুত নিরসন করে অর্থ দেবার ব্যবস্থা করা হোক।
‘এমন জীবন করিবে গঠন, মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন’ কবির কথা স্মরণ করে তাই বলতে হয় বিত্তবানরা যদি জনস্বার্থে কিছু করে যেতে পারেন তাহলে মৃত্যুতে শান্তি পাওয়া যাবে। আর যারা বেঁচে থাকবে তারা স্বার্থত্যাগী মানুষটির জন্য কাঁদবে। এর চেয়ে চাওয়া-পাওয়া আর কিছু থাকতে পারে না।

মন্তব্য
Loading...