জনপ্রতিনিধিদের সাড়া মেলেনি সংস্কার করলেন গ্রামবাসী

১৮১

ইছানুর রহমান, বাঁকড়া

ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বড় পোদাউলিয়া গ্রামে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস। ওই গ্রামের দীর্ঘ ৬০০ মিটার রাস্তা ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন গ্রামবাসী। বর্ষায় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে ও গ্রামের স্কুলসহ আশপাশের কলেজে যেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
দুর্ভোগ দূর করার জন্য গ্রামবাসী রাস্তাটি নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপিসহ বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিলেও রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে কোনো সাড়া মেলেনি। তাই নিজেদের সমস্যা সমাধানে নিজেরাই এগিয়ে এলেন। নেমে পড়লেন নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা ইটের সোলিং করার কাজে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ এ রাস্তাটি বালু আর ইট বিছিয়ে বর্ষায় যাতায়াতের উপযোগী করতে চলেছেন গ্রামবাসী। বাজেট প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা। গ্রামের শিক্ষক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমজীবীসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এ রাস্তা সংস্কারের কাজে যোগ দিয়েছেন।

রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যস্ত গ্রামের বাসিন্দা শফিউদ্দিন মোড়ল বলেন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান আমাদের এই দুরবস্থার বিষয়ে অবহিত থাকলেও রাস্তা সংস্কারে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনেকবার গিয়েছি স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপিসহ বিভিন্ন দপ্তরে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সামনের বর্ষায় যাতে ঘর থেকে বের হয়ে সবাই যার যার কাজে যেতে পারি এ কারণে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বড় পোদাউলিয়া গ্রামের থেকে দক্ষিণে বাকুড়া, জে কাঠির এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার লোকের যাতায়াত। বড় পোদাউলিয়া, বাঁকুড়া, জে কাঠির একটি অংশের শিক্ষার্থীরা স্কুল ও মাদরাসায় যাতায়াত করে এ সড়কটি দিয়ে।

বড় পোদাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা শংকরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জাহান আলী বলেন, গ্রামের এ রাস্তাটিতে বর্ষার সময় খুব কাদা হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ১০ বছর ধরে আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। তাই শেষে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছি রাস্তাটি মেরামত করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে আমরা রাস্তায় বালু দিয়েছি। তারপর ইট বিছিয়েছি। এরপর পুকুরের পাড় বাঁধাই করেছি। বড় পোদাউলিয়া গ্রামের পাকা রাস্তার মোড় থেকে প্রায় ৬০০ মিটার পর্যন্ত রাস্তার এ কাজ চলবে। গ্রামের একটি অংশের সবাই আর্থিক ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এমনকি এ রাস্তাকে ঘিরে একটা মিনি বাজারও গড়ে উঠছে বলে তিনি জানান।
বড় পোদাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইছা মোড়ল বলেন, এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন গ্রামসহ জে কাঠি, বাঁকুড়া গ্রামের ছাত্ররা পোদাউলিয়া মাদরাসায় যাতায়াত করে। বর্ষার সময় পোদাউলিয়া, বাঁকুড়া, জে কাঠি গ্রামের শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেতে পারে না। তাই বর্ষা আসার আগেই নিজেরাই রাস্তাাটি মেরামত করতে তারা উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন বলেন, রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে চলাচলের উপযোগী থাকে না। তাই গ্রামবাসী বর্ষা মৌসুমের আগে নিজেরাই রাস্তার তৈরির কাজ করছেন। তিনিও এ কাজে সার্বিক দেখাশোনা করেছেন বলে জানান।
বুধবার সকালে শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিসার উদ্দীন কাজের পরিদর্শনে গিয়ে এলাকাবাসীর মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এসময় তিনি এলাকাবাসীকে প্রসংশা করে বলেন, ইউনিয়নে প্রতিটি গ্রাম যদি আপনাদের মতো সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করে তাহলে শংকরপুর ইউনিয়ন একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত হবে।

মন্তব্য
Loading...