মেয়র লিটনের আবেগঘন স্ট্যাটাস

৩০৬

আনিছুর রহমান, বেনাপোল

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের আক্রমণে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটাবিশ্ব। বাংলাদেশেও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে জীবনযাত্রা। সেই ধাক্কা লেগেছে যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোলেও। দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর এলাকার মানুষের সংকট ঘনীভূত হয়েছে। সংকটের দিনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বেনাপোল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন। প্রায় ১৫ হাজার পরিবারকে খাদ্যসহায়তা ও ঈদসামগ্রী প্রদান করেছেন। তারপরও ভালো নেই বেনাপোলের মানুষ। মহামারির এই সময়ে বেনাপোলবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আক্ষেপ রয়েছে। বেনাপোলবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নিজেদের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।
তিনি স্ট্যাটাসে লেখেন- ‘প্রিয় বেনাপোল পৌরবাসী আসসালামু আলাইকুম, আমরা এমন একটি সময় অতিক্রম করছি সারা পৃথিবীর মানবজাতি আজ বিপন্ন, বড় অসহায়। আমাদের সব আছে, কিন্তু কি জানি আমাদের নেই। আমরা কখনো তা জানার চেষ্টা করি না। আমি পৌরসভার মেয়র হিসেবে আমার অনেক অযোগ্যতা ও অদক্ষতা, দীনতা, গরীবানা রয়েছে। আমি সব পারি তা সঠিক নয়, আপনারা হচ্ছেন আমার সব থেকে বড় শক্তি, সাহস, বিশ্বাস। আপনারা জানেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার সরকার ও দাতা সংস্থার সাহায্যে বেনাপোল পৌরসভার মা ও শিশু ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল বিল্ডিং নির্মিত হয়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য প্রজেক্ট শেষ হওয়ার কারণে দাতা সদস্যের সম্পূর্ণ অর্থ না দেবার কারণে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে এ হাসপাতালে সেবাবঞ্চিত। কিন্তু আমরা পৌরবাসী কেন পরাজিত হবো, কেন আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের প্রিয়জন আপনজনরা এভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত করে মৃত্যুতে পতিত হবে, আমাদের কি কিছু করার নেই। আজ আমি হারাচ্ছি কাল আপনি, পরশু আর একজন। আমরা চাইলে পূর্ণাঙ্গভাবে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারি। আমরা যদি মনে করি, সকলে মিলে সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সঞ্চয় করে দশটি বেড, ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও একজন ডাক্তার নিজ অর্থায়নে এই মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করব তা আমাদের জন্য খুবই সহজ। আসুন আমরা সকলে মিলে ভালো থাকি। স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে আমাদের বেনাপোলবাসীকে নিয়ে আসি। আমাদের অধিকাংশ প্রিয়জন অক্সিজেন এবং ইমারজেন্সি সেবাবঞ্চিত হয়ে কোনো স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে দিন দিন মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে, আসুন দয়া করে হৃদয় বড় করে একটু এগিয়ে আসি। তাহলে অনেক অপমৃত্যু আল্লাহ সুবহানাতায়ালার দয়ায় আমরা রহিত করতে পারব। আসেন, অর্থ, যৌবন সৌন্দর্যশক্তি চিরস্থায়ী নয়। আমরা আমাদের জন্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু করি। আমি মারা গেলে আমার অর্থ আমার সম্পদ এ পৃথিবীতে থাকবে, কোনো কাজে লাগবে না। তাই আসেন হৃদয়বান হয়ে হৃদয় দিয়ে আমার এই আকুতি মিনতি অনুধাবন করে আমরা এই কঠিন সময় মোকাবিলা করি।’

 

 

মন্তব্য
Loading...