শরণখোলায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

0 ৬২

শরণখোলা প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) মাওলানা সরোয়ার হোসাইন বাদল এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ের আট মাস পর এখন অস্বীকার করছেন। প্রতারণার শিকার ওই নারী বিচার চেয়ে প্রশাসনের দরজায় ঘুরছেন।
উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা আবুল হারেজ মুধার মেয়ে আয়শা আক্তার (২৭) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এক লিখিত অভিযোগে জানান, গোলবুনিয়া গ্রামের ফজলুল হক মোল্লার ছেলে সরোয়ার হোসাইন বাদলের সাথে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে হয়। বাদল নিজেই কাজী হিসেবে বিয়ের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সেই থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকতে শুরু করেন। রাজনৈতিক সমস্যার কথা বলে বিয়ের পর বিষয়টা কিছুদিন গোপন রাখতে বলেন তিনি। এভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাদের জীবন আট মাস পার হয়।
বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী তার কাছে কাবিন দেখতে চায়। কিন্তু বাদল দেনমোহর পাঁচ লাখ টাকার পরিবর্তে মাত্র দশ হাজার টাকা করে একটি কাবিন তৈরি করেন এবং তা পরিশোধ করা হয়েছে বলে তাতে উল্লেখ করেন।
এর কিছুদিন পর বাদল ফোন করে তাকে তালাক দিয়েছেন বলে জানান। এ ঘটনায় আয়শা আক্তার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, আমার সাথে বাদল প্রতারণা করেছে। আমি সবকিছু হারিয়ে এখন স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।
জামায়াত নেতা কাজী সরোয়ার হোসাইন বাদল বলেন, এক সময় সে আমার স্ত্রী ছিল। কিন্তু আমার সাথে খারাপ আচরণ করায় তাকে তালাক দিয়েছি। স্ত্রী খারাপ আচরণ করলে স্বামী তালাক দিতে পারে। সে বিধান ইসলামী শরীয়তে আছে।
উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, কারো অপকর্মের দায় সংগঠনের নয়। বাদল বির্তকিত কর্মকা-ে জড়িত হওয়ায় ইতোমধ্যে তাকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম জানান, এটা সংগঠনের কোনো বিষয় না। এটা আইনের মাধ্যমে ফয়সালা হবে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ওই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এখানে আমার কিছু করার নেই। অভিযোগ করা নারীকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য
Loading...