ব্যবসায়ীদের পুঁজিতে হাত

১২৯

এইচ আর তুহিন

যশোর শহরের এইচএম রোডের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান রাজিব। তার সংসার বিপণি নামে দোকানে কাজ করেন ৭ জন। তিনি বেচাকেনা করে কর্মীদের বেতন ও দোকান ভাড়া তুলতে পারছেন না।
বাবু বাজারের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের দোকানের কর্মচারী তিনজন। তিনিও কর্মচারী এবং দোকান ভাড়ার টাকা পণ্য বিক্রি করে দিতে পারছেন না। একই অবস্থা জজকোর্ট মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা শেখ জাহিদের।
এ অবস্থা অধিকাংশ ব্যবসায়ীর। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দুই মাস দোকান বন্ধ ছিল যশোরের ছোট-বড় দোকানিদের। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সরকার আরোপিত বিধিনিষেধ মেনে দোকান খোলা হলেও বিক্রি নেই। নিত্যপণ্য বাদে অন্য পণ্যের ক্রেতা এলেও তাতে দোকান খরচ উঠছে না। আবার বিলাসী পণ্যের দোকানে দুই থেকে তিনদিনেও একজন ক্রেতা দেখা যায় না। এমন অবস্থায় চোখে অন্ধকার দেখছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাই দোকান খোলা রেখেও পুঁজি ভেঙে সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের।
তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে, নিত্য খাদ্যপণ্যের দোকানগুলোতে। করোনার সুযোগ নিয়ে এ খাতের অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন অধিক মুনাফা। ক্রেতারা বলেছেন, করোনাকালে মানবিক হওয়ার পরিবর্তে এই ব্যবসায়ীরা পণ্যের সংকট দেখিয়ে অধিক মুনাফা করছেন। এতে খেটে খাওয়া মানুষরাই মূলত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান রাজিব বলেন, আমাদের অবস্থা ভালো না। দিন যত যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা আরো বেশি সংকটে পড়ছে। দোকান বন্ধ থাকার চেয়ে খোলা রাখা যেন আরো বেশি যন্ত্রণার হয়ে উঠছে। কারণ বড় যেকোনো একটি দোকানের খরচ উঠছে না। বেচাকেনা হোক বা না হোক খরচ তাদের করতে হচ্ছে। যেটা বন্ধ রাখলে হয়তো অনেক কম হতো। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধও রাখা সম্ভব নয়। আসলে ব্যবসায়ীরা উভয় সংকটে আছে। এখন পুঁজি ভেঙে খাওয়া ছাড়া পথ নেই। এ অবস্থা আরো বেশি স্থায়ী হলে, অর্থনীতির অবস্থা কোথায় যায় সেটা বলা মুশকিল।
সরেজমিন বাজার এলাকায় কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, একমাত্র খাদ্য পণ্যের দোকান ছাড়া অন্য পণ্যে চলছে মন্দাভাব। ক্রেতা না মিললেও বিক্রেতারা বসে থাকেন পশরা সাজিয়ে। অনেক দোকানে কালেভদ্রে দুই-একজন ক্রেতা এলেও প্রতিযোগিতার কারণে কাক্সিক্ষত লাভ হয় না। একটি বড় কাপড়ের দোকানের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন বলেন, আমরা গত রোজার ঈদ করতে পারিনি। এবারের বছরটা কীভাবে পার করব সেই চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না। দোকান খুলতে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। দিন শেষে এ টাকা বিক্রি করে সবাইকে দিতে পারলেই হয়। এখন ব্যবসার চিন্তা করি না, বেঁচে থাকতে পারলেই হয়। সকাল ১০টায় খুলে আবার ৪টায় বন্ধ করতে হয়। এটা কেবল খোলা আর বন্ধ করার খেলা বললেও ভুল হবে না।
ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন দোকানে তো কোনো ক্রেতা নেই। শুধু দোকান-মার্কেট খুলে বসে থাকেন ব্যবসায়ীরা। করোনা সংক্রমণ বাড়ায় দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। তাছাড়া মানুষের আয়ে প্রচ- আঘাত এসেছে। তাই সহসা ক্রেতা বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব নিয়ম মেনেই দোকানদারি করছি। তবে ক্রেতা না থাকায় আমরা সবাই হতাশ। অধিকাংশ ব্যবসায়ীদেরই ব্যাংক লোন নেওয়া আছে। তারা কিভাবে ব্যাংক লোন পরিশোধ করবে। এ ছাড়া শ্রমিকদের বেতন, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য খরচ তো আছেই। কিন্তু এখন তো আর তা সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে একটা খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য
Loading...