বাঘারপাড়ায় জনসম্মুখে গাড়িচালককে খুন

0 ১৮৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের বাঘারপাড়ায় স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় রিপন হোসেন (৩০) নামে এক মাইক্রোবাস চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় জড়িত বরকত ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত রিপন হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার মহিরন গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস চালাতেন। তার দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার বেলা ৩টার দিকে স্ত্রী পিংকিকে নিয়ে বরকত বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেট দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় হাসপাতাল গেটসংলগ্ন মাইক্রোস্ট্যান্ড থেকে তাদেরকে লক্ষ্য করে ইভটিজিং করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বরকত তার কোমরে থাকা চাকু বের করে রিপনের বুকে আঘাত করে। এতে রিপন গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এনাম উদ্দিন জানান, নিহত রিপনের বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্বাসনালী কেটে যায়। হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাক জানান, রিপন হাসপাতালের সামনে মাইক্রোবাস নিয়ে ভাড়া পাওয়ার আশায় দাঁড়িয়েছিলেন। এমন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের সামনে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করলে প্রকাশ্যে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে বরকত। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি দেখে তাকে যশোর সদর হাসপাতালের আনলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় হিরু ও সোহেল নামে আরো দুজন আহত হয়েছেন। তারা বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে হিরু জানিয়েছেন, হাসপাতাল গেটের সামনে মোটরসাইকেলে বরকত ও ভ্যানে একটি মেয়ে বসে কথা বলছিল। পরে দেখি, স্ট্যান্ডের ড্রাইভার হাসিবুল ও বরকত কী নিয়ে যেন আলাপ করছে। হঠাৎ তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে বরকত। পরে স্ট্যান্ডের অন্য ড্রাইভারদের সাথে রিপনও এগিয়ে যায়। তারা কী কারণে হাসিবুলকে মারধর করছে জানতে চাইলে বরকত ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি বের করে। সেইসময় আমিও দোকান থেকে বের হয়ে যাই তাদের ঠেকাতে। ভীড়ের মধ্যে মধ্যে বরকত আমার বামহাতে ছুরিকাঘাত করে, পাশে ফিরে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে রিপন। সেইসময় উত্তেজিত ড্রাইভাররা বরকতকে ধরে বেদম মারপিট করে। পুলিশ এসে অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে যায়।
এদিকে, রিপনের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয়রা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ শেষে মাইক্রোস্টান্ডের সামনে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। কিছুসময় অবরোধ শেষে রাস্তায় যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
এসময় স্থানীয়রা রিপনের খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাতে থাকে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, ঘটনায় জড়িত বরকত যশোর শহরের মোল্লাপাড়া এলাকায় বাসিন্দা। তিনি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক। বাঘারপাড়া উপজেলা হাসপাতালের সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিহত রিপনসহ আরো দুজনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে জখম করে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ও তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এঘটনায় রিপন মারা যান। বাকিরা ভালো আছেন। মরদেহ মর্গে রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অভিযুক্ত বরকত যুবলীগের যশোর শহর শাখার এক নম্বর ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক। তিনি যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙ্গে লিটন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড সাইদুর রহমান রিপন ওরফে ডিম রিপনের প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তিনি আলোচিত এ বাহিনীর মাদক ও চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট পরিচালনার সাথে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যুবলীগের যশোর শহর শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান মিলু জানিয়েছেন, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত বরকত সংগঠনের নেতা হলেও তার অপরাধ কর্মকা-ের দায়ভার সংগঠন নেবে না। বরং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য
Loading...