ঝিনাইদহ কেয়ার হাসপাতালে অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু!

0 ৬২

সুলতান আল একরাম, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগর বাতান গ্রামের সাইফুলের স্ত্রী ইয়াসমিনের প্রসব বেদনা শুরু হলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রসূতি মায়ের সিজার হবে না বরে সরকারি হাসপাতালে ক্লিনিকের দালালের সহযোগিতায় ঝিনাইদহ ট্রাক টার্মিনালের পূর্ব পাশে অবস্থিত কেয়ার হাসপাতালে ২৫ হাজার টাকার চুক্তিতে ভর্তি করা হয় তাকে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমারের সহযোগিতায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট অজ্ঞানের ডা. আয়ুব আলী ২৭ জুন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কেয়ার হাসপাতালে ইয়াসমিনের সিজার করেন। দুইটি জমজ সন্তান হয় তার।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ইয়াসমিন সিজারের সময় অপারেশন থিয়েটারেই মারা যান। বিষয়টি গোপন করে রোগীকে যশোর পাঠানো হয়।
কেয়ার হাসপাতালের মালিক ডা. অপূর্ব কুমার ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার। যার কারণে প্রতিদিন হাসপাতাল চলাকালিন তাকে হাসপাতাল থেকে ৪-৫ বার কেয়ার হাসপাতালে ছুটতে দেখা যায়। তাছাড়া কেয়ার হাসপাতালের ম্যানেজার ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে বহিঃবিভাগের টিকিট বিক্রি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এরআগে ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কোর্টপাড়ার নুর আলমের স্ত্রী বিথি খাতুনকে সিজার করাতে ঝিনাইদহ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সিজার করার পর দুই দিন ধরে ব্লিডিং হতে থাকে রোগীর। পরে তিনি মারা যান।
ডা. আয়ুব আলী বলেন, আমি যখন হরিণাকু-ুতে ছিলাম তখন গাইনি হিসেবে কাজ করতাম। তাছাড়া আমার এক বছরের গাইনি কোর্স করা আছে। ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন প্রসূতি সিজার করে থাকি।
ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলেন, আমি জানি আয়ুর আলী অজ্ঞানের ডাক্তার। তিনি কিভাবে সিজার করছেন তা আমার জানা নেই।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, আমি শুনেছি ঝিনাইদহের কেয়ার হাসপাতালে একজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

মন্তব্য
Loading...