নদী রক্ষা না করলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে

0

ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে চিত্রা নদীর অবৈধ আড়বাঁধ উচ্ছেদ করেছেন। ২৫ জুন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিযান পরিচালনা করেন। আদালত বাঘারপাড়ার চন্ডিপুর মালোপাড়া ঘাটের দুটি আড়বাঁধ উচ্ছেদ করেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় দেশে প্রায় ৪৪ হাজার দখলদার চি‎িহ্নত করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ইতিবাচক ফল না পাওয়া পর্যন্ত নদী দখল উচ্ছেদ অভিযান চলবে। উচ্ছেদ অভিযান মনিটরিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে।
সাধারণভাবে ধারণা করা হতো, রাজধানীসহ বড় বড় শহরের নদ-নদী ও খাল দখল হয়েছে। তবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য-উপাত্তে দেশে নদ-নদী দখলের ভয়াবহ চিত্র
ফুটে উঠেছে। দেশে বোধ হয় এমন কোনো নদ-নদী নেই যেটি দখল হয়নি। দখলদারের তালিকায় প্রভাবশালীদের নাম যেমন রয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের নামও রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নদ-নদী সম্পর্কে জাতীয় চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে। নদ-নদী বা জলাশয়ের প্রতি খুব কম মানুষের মধ্যেই মমত্ব অবশিষ্ট আছে। যে যেভাবে পারছে নদ-নদী দখল করছে। কেউ নদ-নদী দখল করে শিল্পকলকারখানা গড়ে তুলেছে, কেউ টংঘর বানাচ্ছে। সর্ববিস্তারি দখল-দূষণে নদ-নদীগুলো অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।
নদ-নদী থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হওয়ার অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে এ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই চলবে না। নদ-নদী বা খাল যেন পুনরায় দখল হয়ে না যায় সেটা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে আমরা অনেক উচ্ছেদ অভিযান দেখেছি। কিন্তু সেসব অভিযানের ফল টেকসই হয়নি। একদিক দিয়ে অভিযান চলে, অন্যদিক দিয়ে দখল হয়ে যায়। সরকার বলছে, পুনর্দখল রোধে বৃক্ষরোপণ ও ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে। আমরা বলতে চাই, অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তাতেও সুফল মেলেনি। নদ-নদী দখল কার্যকরভাবে বন্ধ করতে হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয় না বলেই কোন অভিযানই সফল হয় না।
নদ-নদী রক্ষায় জাতীয় চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রশ্নে নদ-নদীর গুরুত্ব প্রতিটি নাগরিককে উপলব্ধি করতে হবে। নদী না বাঁচলে আক্ষরিক অর্থৈই যে জীববৈচিত্র্য বাঁচবে না সেটা বুঝতে হবে। নদী রক্ষা কমিশনকে শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। আদালত বলেছেন, দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল এবং জলাশয়গুলোর আইনগত অভিভাবক হচ্ছে নদীরক্ষা কমিশন। আমরা চাই, কমিশন তার নদ-নদী রক্ষায় পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করুক। আমরা আশা করবো, নদী রক্ষার কাজে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

মন্তব্য
Loading...