জর্ডানে বাংলাদেশি নারীর বিভীষিকাময় জীবন

0 ৬৮

মহেশপুর প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুরের এক অসহায় নারী স্বপ্ন দেখেছিলেন বিদেশ গিয়ে জীবনের ভাগ্য পরিবর্তনের। তিনি এখন জর্ডানে দালালদের নিয়ন্ত্রণে বন্দিদশায় নির্যাতনের শিকার। এ বন্দিদশা থেকে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিমানে করে এ নারী জর্ডানে পাড়ি জমান। সেখানে দালালরা তাকে একটি বাসায় আটকে রেখে যৌনহয়রানি ও নির্যাতন করছে। তাদের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করতে না পারায় শারীরিকভাবেও নির্যাতন করা হচ্ছে। বর্তমানে জর্ডানে দালালদের একটি অফিসে তার বন্দিজীবন কাটছে। সেখানে একাধিক বাংলাদেশি নারী আছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। সেখান থেকে এক নারীর সহযোগিতায় তার পরিবারের কাছে ফোনে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। প্রবাসী নাজমার স্বামী মফিজুর রহমান ঝিনাইদহে মানবাধিকার সংগঠন আরডিসির কাছে স্ত্রীর করুন দশার বর্ণনা দিয়ে স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যে আবেদন করেছেন।

ওই আবেদনে বলা হয়েছে, নাজমা খাতুনের দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তাকে মোটা বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখান মহেশপুর থানার রাখালভোগা গ্রামের মৃত তালেব মন্ডলের ছেলে মিলন। তার মাধ্যমে ফরিদপুর জেলার কোতয়ালি থানার কৈঝুরি ইউনিয়নের বাহারমোড় গ্রামের আলতাফ শেখের ছেলে আদম ব্যবসায়ী আলমের সাথে যোগাযোগ হয়। আলম ঢাকা পল্টনের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জাহিদুলের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর বিমানে করে তাকে জর্ডানে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে শুরু হয় নাজমার জীবনের করুণ কাহিনি।
মানবাধিকার সংগঠন আরডিসির নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমান জানান, নাজমাকে উদ্ধারের জন্যে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নাজমার এক বোনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন তিনি খুব খারাপ অবস্থায় আছেন।

মন্তব্য
Loading...