প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ বন্ধ করা প্রয়োজন

0 ৬২

বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে প্রযুক্তিকে অবহেলা করা যাবে না। কিন্তু সেই প্রযুক্তি যদি সর্বনাশের কারণ হয় তাহলে জাতি ধ্বংসের দ্বারে পৌঁছে যাবে। প্রযুক্তি উন্নয়নের বাহন। কিন্তু এ প্রযুক্তি যেন সর্বনাশের বাহন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
মোবাইল ফোন ছাড়া দৈনন্দিন যোগাযোগ রক্ষা ও জীবনযাপন অচল প্রায়। লেখাপড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল প্রদানসহ বিশ্ব তথ্যভান্ডারের সাথে যুক্ত থেকে ঘরে বসে অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়। এতে জীবন সহজ ও গতিশীল হয়েছে। কিন্তু এই মোবাইল যখন জীবনের ধ্যান-জ্ঞান সব হয়ে যায়, তখন কিন্তু সেটি ভালো থাকে না। মোবাইল ফোন বর্তমান সময়ে একটি অপরিহার্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। আজকাল বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান সর্বত্রই দেখা যায় যে সিটে বসে সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকে মোবাইল দিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে। রাস্তায় গাড়ির নিচে পড়ে প্রাণ হারায়। পাশাপাশি সিটে বসেও একজন আরেকজনের সঙ্গে কোনো আলাপচারিতা এমনকি কথা পর্যন্ত বলে না। সারাক্ষণ মোবাইল ফোন নিয়েই ব্যস্ত। এমনকি বাসায় এসেও ফেসবুক, গেমস ইত্যাদি নিয়েই সময় কাটিয়ে দেয়। একজন অন্যজনের সাথে কোনো কিছু শেয়ারও করতে চায় না। এতে করে দিন দিন পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে। অন্যদিকে ছেলে-মেয়েরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। তবে একটা কথা পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, এর জন্য প্রযুক্তি বা মোবাইল ফোন কোনোভাবেই দায়ী নয়। বরং এর দায়িত্ব ব্যবহারকারীর।
হাল আমলে মোবাইলের অপব্যবহার দারুণভাবে হচ্ছে। আজকাল প্রাথমিকের নিচের শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে মোবাইল দেখা যায়। এই মোবাইলটা নিশ্চয় শিশু শিক্ষার্থীর অভিভাবক কিনে দিয়েছেন। কিন্তু কি প্রয়োজনে একজন অভিভাবক তার কোমলমতি সন্তানটির হাতে মোবাইল তুলে দিয়েছেন তা কি তিনি একবারও ভেবে দেখেছেন? অভিভাবকরা কতটা অসচেতন হলে এ কাজটি করতে পারেন তা তারা একবারও ভেবে দেখেন না। শিশু শিক্ষার্থী মোবাইল হাতে নিয়ে যখন স্কুলের পথে ওঠে তখন এ দৃশ্য বিবেকবা মানুষকে ভাবিয়ে না তুলে পারে না। সব চেয়ে বড় ক্ষতির কথা হলো, যে অভিভাবক তার অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক সন্তানটির হাতে মোবাইল তুলে দিয়েছেন তিনি তার সন্তানটির মোবাইল অপারেট করা নিয়ে গৌরব করেন। তিনি ভাবেন তার সন্তানটি এতো অল্প বয়সে মোবাইলের বিভিন্ন ফাংশন বুঝে ফেলেছে। এর অর্থ তার সন্তানটি জ্ঞান গরিমায় সেরা হয়ে ওঠছে। কিন্তু সেটা যে আদৌ ঠিক নয় তা যতক্ষণ না বুঝবেন ততক্ষণ ধরেই নিতে হবে এই মোবাইল প্রযুক্তি তার সন্তানটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
আজকাল স্কুল-কলেজের পথে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহার করতে দেখা যায়। তারা পথ দিয়ে যাচ্ছে নাকি বেপথে যাচ্ছে সেদিকে খেয়াল থাকে না। আর এই বেপথে চলতে চলতে একদিন সে জীবনের বেপথে ধাবিত হয় এবং হচ্ছেও। সরকার অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের বিরুদ্ধে কঠোরতা আরোপ করেছে। কিন্তু এই মোবাইল প্রযুক্তির অপপ্রয়োগে বেশুমার অপ্রাপ্ত বয়ষ্করা বিয়ে করে ফেলছেন। অভিভাবকদের ছাড়াই তারা মোবাইলে যোগাযোগ করে এই কাজটি করেই যাচ্ছে।
প্রযুক্তি অগ্রগতির বাহন। এই প্রযুক্তিকে সঠিক কাজে লাগাতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে তাদের সন্তানদের হাতে মোবাইল দেবার বিষয়ে। স্কুল কলেজে যাবার সময় কেন তারা মোবাইল নিয়ে যাবে, এটা প্রত্যেক অভিভাবককে অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে। এমনও দুঃখজনক খবর কানে আসে যে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মোবাইল নিয়ে গেলে শিক্ষকরা ক্লাস টাইমের জন্য মোবাইলটা নিয়ে নিলে এক শ্রেণির অভিভাবক নাকি মারমুখি হয়ে স্কুলে চড়াও হয়। এটা কত বড় সর্বনাশের আলামত তা কেউ বুঝতে পরছে কিনা আল্লাহই মালুম।
প্রযুক্তির এই অপপ্রয়োগ বন্ধে সময় ক্ষেপন না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার পথ বের করতেই হবে।

মন্তব্য
Loading...