যশোরে করোনার সাথে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা

0 ১০৭

যশোরে যেন করোনার সাথে পাল্লা দিয়ে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এতে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। একদিকে মহামারী করোনার কারণে সর্বস্তরের মানুষ উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার সাথে অপরাধ যদি বাড়তে থাকে তাহলে মানুষ দাঁড়াবে কোথায়? যশোর থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকে ১২ জুন ৬টি নানা ধরনের অপরাধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এসব খবরগুলো হলো, মণিরামপুর উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের নারী পাচারকারী মহির উদ্দিন চক্রের দৌরাত্ম্য। সদর উপজেলার শ্যমনগর গ্রামে এক যুবককে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টা। যশোর শহরের বকচর থেকে ডিবি পরিচয়ে দুর্বত্তরা তরুণ-তরুণীকে অপহরণ করে লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি। শার্শার নাভারণের সাতক্ষীরা মোড়ে সাংবাদিক ইকবাল হোসেনের চালের আড়ৎ লুট। যশোর শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া থেকে এক কিশোরীকে অপহরণ এবং আদালতকে ঘিরে এক শ্রেণির অসৎ চক্রের তৎপরতা এবং সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ী মহিদুলের সন্ত্রাস। যদি যশোর থেকে প্রকাশিত সবগুলো পত্রিকার চিত্র তুলে ধরা যেতো তাহলে এ মিছিল আরো বড় হতো। আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোর পরিসর ছোট। অর্থাৎ অধিকাংশের পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪। এই চার পৃষ্ঠার কাগজে এতগুলো দুর্নীতি, অনাচার, অবিচারের সংবাদ মানে বিষয়টি উদ্বেগজনক।
জীবন যাত্রার জন্য সামাজিক বন্ধন অপরিহার্য। অপরাধ সেই বন্ধন নষ্ট করে দেয়। এই বন্ধন যদি না থাকে তাহলে সমাজ চলতে পারে না। আসলে আমাদের সমাজ কিন্তু চলছে না। বিবেক বলতে যেটা বোঝায় সেটার বনবাস হয়েছে। এ বিবেকহীন সমাজ চলবে কি করে? নারী পাচারকারীর দৌরাত্ম্যে যদি শান্তিপ্রিয় মানুষ নিরাপত্তা হারায়, তারা যদি অধরা থাকে তাহলে ধরা পড়বে কে? শ্যামনগরের যুবক ও যশোর শহরের বকচরের তরুণ-তরুণীকে অপহরণ করে লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করলে নতুন প্রজন্ম পথে নামবে কি করে। তরুণরা শত সমস্যার পথ মাড়িয়ে সৃষ্টিশীলতায় মাতবে। অপরাধের কারণে তারা গৃহবন্ধী হলে উন্নয়নের চাকা একদিন উল্টোদিকে যাবে। নাভারণের সাংবাদিকের আড়ৎ লুট করতে যেখানে দুর্বৃত্তরা ভয় পায়নি সেখানে সাধারণ মানুষ পরিচয়ের অন্য ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করবে কি করে? যে দুর্বৃত্তরা আদালতকে ঘিরে অপকর্ম করতে পারে তারা এমন কোনো অপরাধ নেই যা করতে পারে না। একের পর এক যদি অপরাধের ঘটনা ঘটতেই থাকে তাহলে সমাজটা কি মানুষ বাসের উপযোগী থাকে? সরকার কোনটা রেখে কোনটা ধরবে। আর যে ধরছে না তাও তো নয়। কিন্তু কেন মানুষ এত বেপরোয়া হলো? সমাজকে শান্তিপ্রিয় মানুষের বাসোপযোগী করতে হবে। এভাবে তো চলতে দেয়া যাবে না। আমরা মনে করি একটা শুদ্ধ সমাজ গঠনে অত্যন্ত কঠোর হস্তে শুদ্ধি অভিযান দরকার।

মন্তব্য
Loading...