বিপিএলে প্রতি ৮ মিনিটে গোল করেছেন যশোরের রাব্বি

0 ১৭৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক

একটু ভ্রু কুচকে দেয়ার মতো পরিসংখ্যান। এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রতি আট মিনিটে একটি গোলে অবদান আছে একজন ফুটবলারের! কে হতে পারেন? না কোনো বিদেশি ফুটবলার নন। একজন দেশি ফুটবলারের নামের পাশেই এমন অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান!
ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে তিন ম্যাচে মাত্র ২৫ মিনিট মাঠে থেকে তিন গোলে অবদান রাখা ফুটবলারের নাম মান্নাফ রাব্বি। চট্টগ্রাম আবাহনীর আকাশী-নীল জার্সিতে এমন অনবদ্য পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন এই যশোরের ফুটবলার। তিন গোলে অবদান রাখতে এই ২১ বছর বয়সী ফুটবলার সময় নিয়েছেন মাত্র ২৫ মিনিট।
একটু খোলাশা করা যাক। মান্নাফ রাব্বি বন্দরনগরীর দলটির জার্সিতে এবারের লিগে সর্বমোট তিনটি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। সবগুলো ম্যাচেই খেলেছেন বদলি হিসেবে। এর মধ্যে নিজে একটা গোল করেছেন আর করিয়েছেন দুটো গোল।
ব্রাদার্স ইউনিয়নের জার্সিতে গত মৌসুমে ৮ গোল করা এই মিডফিল্ডার এবার চট্টগ্রাম আবাহনীতে নাম লিখিয়েই চমকে দিচ্ছেন। মারুফুক হকে অধীনে তিন ম্যাচে সুযোগ পেয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
সেটা কীভাবে? মনে করিয়ে দেই এবার বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের রূপকথা লিখে নীলফামারী থেকে জয় নিয়ে ফিরেছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। ৪-৩ ব্যবধানে সেই ম্যাচটায় মান্নাফ রাব্বি বদলি নেমে ম্যাচের চেহারাই বদলে দিয়েছেন একাই। ৭৭ মিনিটে বদলি মোনেম খানকে উঠিয়ে বদলি হিসেবে মারুফুল হক মাঠে নামালেন মান্নাফ রাব্বিকে। তখনও এক গোলে পিছিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী। হাতে সময় মাত্র ১৩ মিনিট। নিক্সন আর ব্রোসৌয়ের গোলে ৩-২ ব্যবধান করে চট্টগ্রাম আবাহনী।
রাব্বি নেমেই যেন ম্যাচের রঙ পাল্টে দিলেন। বসুন্ধরা কিংসের তারকাবহুল ডিফেন্সের ‘ফাঁক ফাঁদকে’ কাজে লাগিয়ে দুটো গোল করিয়েছেন এই স্থানীয় ফুটবলার। ৮৭ মিনিটে চিনেদুকে দিয়ে গোল করালেন। ম্যাচ সমতায়। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে কিংস সমর্থকরা তখন স্তব্ধ। তিন গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচে মুহূর্তেই ৩-৩ হয়ে গেছে। অ্যাওয়ে ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে চট্টগ্রাম আবাহনীর দরকার আর একটা গোল। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে এই রাব্বী বলটা দারুণ বাঁকানো পাসে চিনেদুকে দিয়ে গোল করান। কিংসের লাল উৎসব যেন পরিণত হয় বেদনার নীলে। বয়সভিত্তিক জাতীয় ফুটবলের দলের নিয়মিত মুখ এই রাব্বী এই লিগে এর আগেও শেখ রাসেলের বিপক্ষে ৮৫ মিনিটে বদলি নেমে একটি গোল করে দলকে স্বস্তির জয় উপহার দিয়েছিলেন। আবাহনীর হয়ে ২৫ মিনিটে মাঠে থেকে তিন গোলে অবদান রাখায় তাকে ‘সুপারসাব উপধা’ দেয়াই যায়।

ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে নিয়মিত একাদশে থাকা রাব্বী অবশ্য নিক্সন, নিচেদুর মতো বিদেশিদের ভিড়ে মূল একাদশে না থাকতে পেরেও আক্ষেপ রাখেননি। জানালেন লিগ লম্বা রেসে ঘোড়া। সেই রেসে টিকে থাকলে সময় আসবে। এমনটাই নাকি বার্তা তার গুরু মারুফুল হকের। বদলি নামানোর আগে কী বার্তা দিতেন তার কোচ শুনুন রাব্বীর মুখেই, ‘ম্যাচ পর্যালোচনা করে কোচ মারুফুল হক আমাকে পজিশন নিতে বলেন। সেটাই ফলো করি। আর নিয়মিত একাদশে সুযোগ পাচ্ছি না এতে আক্ষেপ নেই। কারণ কোচ বলেছেন- লিগ একটা লম্বা দৌড়। এখানে অনেক সুযোগ আসবে নিজেকে চেনানোর। সেটাই করে যাচ্ছি।
বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিতভাবে খেলেছেন মান্নাফ রাব্বী। তার সতীর্থ জনি, বিশ্বনাথ বিপলু, টুটুল বাদশা, ইব্রাহিমরা এখন সিনিয়র জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ। মাঝে অ্যান্ড্রু ওর্ডের অধীনে ক্যাম্পে ডাকও পেয়েছিলেন রাব্বী। ইনজুরি দুর্ভাগ্যের কারণে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেয়া হয়নি তার। তবে অচিরেই সেই স্বপ্ন পূরণ হবে বলে বিশ্বাস রাব্বীর, আমার লক্ষ্য একটাই। জাতীয় দলে জায়গা তৈরি করা। এবং থিতু হওয়া। সেজন্য লিগে পারফরম্যান্স করেই কোচদের সুনজরে থাকতে চান রাব্বী, আমার কাজটা আমি করে যাবো। পরিশ্রম করে যাবো। এভাবে পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে আশা করি আবার ডাক পাবো। তখন থিতু হবো।

মন্তব্য
Loading...