যানবাহনে হ-য-ব-রল

৬৯

দেবু মল্লিক

করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই যশোর অঞ্চলে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। ‘সীমিত যাত্রীর’ কথা বলা হলেও অনেকে সিট না পেয়ে বাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। মানা হচ্ছে না বর্ধিতভাড়া আদায়ের নিয়মও। এছাড়া যাত্রীদের মধ্যেও রয়েছে চরম অসচেতনতা। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষে পকেট কাটা পড়ছে।
এদিকে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সীমিত সংখ্যক’ যাত্রীর বেশি উঠানোয় যশোরে পাঁচটি বাসের চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে যশোরের পাঁচটি প্রবেশপথে অভিযান চালিয়ে ট্রাফিক পুলিশ এই মামলাগুলো করেছে।
মঙ্গলবার অসুস্থ মেয়েকে দেখতে ঝিনাইদহ থেকে সাতক্ষীরার চুয়াডাঙ্গায় যাওয়ার পথে আগের থেকে দ্বিগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হয়েছে নির্মল চন্দ্র সরকারকে। যশোর বাস টার্মিনালে তিনি জানান, ঝিনাইদহ থেকে যশোর পর্যন্ত আগের ভাড়া ছিল ৬০ টাকা। তবে তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ১১০ টাকা। ছাড়ার সময় বাসের মধ্যে যাত্রী কম থাকলেও পথিমধ্যে যাত্রী উঠানো হয়েছে। এক পর্যায়ে গাড়ির মধ্যে দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত ছিলো না।
জানা যায়, দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ রাখার পর ১ জুন থেকে সারাদেশে সীমিত যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। একই সাথে বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বাসে সিটের অর্ধেক অর্থাৎ ৪০ সিটের বাসে ২০ জন ও ৫০ সিটের বাসে ২৫ জনের বেশি যাত্রী উঠানো যাবে না। সব যাত্রীকে পরতে হবে মাস্ক। কিন্তু যশোরে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।
সরেজমিন যশোর বাস টার্মিনাল, চাঁচড়া চেকপোস্ট ও পালবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাসের মধ্যে থাকা যাত্রীদের সবার মাস্ক পরা নেই। কোন কোন বাসের মধ্যে সিটে বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা। তবে পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, যাত্রীরা জোর করে গাড়িতে উঠে পড়ছেন। এতে তাদেরও করোনা ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
যশোর থেকে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসের হেলপার রনি তালুকদার জানান, অল্প যাত্রী নিয়েই তারা টার্মিনাল থেকে গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছেন। কিন্তু পথিমধ্যে অনেক যাত্রী জোর করে গাড়িতে উঠে পড়ছেন। কেউ কেউ আবার মাস্ক না পরেই আসছেন।
যশোর বাস মালিক সিমিতির সভাপতি আলী আকবর বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই যশোরে বাস চলাচল করছে। কোন বেশি যাত্রী নেয়া হচ্ছে না। ভাড়া বেশি নেয়ার অভিযোগটিও সত্য নয়। তবে আমাদের যাত্রীরা বেশ অসচেতন। তারা পকেটে কাস্ক রেখে দিলেও মুখে পরতে চান না।
এ ব্যাপারে যশোর ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক শুভেন্দু কুমার মুন্শী বলেন, নির্দেশনা বাস্তবায়নে যশোরের ট্রাফিক বিভাগ কাজ করছে। মঙ্গলবার শহরের পালবাড়ি, মণিহার, চাঁচড়া মোড়, নিউমার্কেট ও মুড়লী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় বাসে সরকারি নির্দেশনার চেয়ে যাত্রী বেশি থাকায় পাঁচ চালকের নামে মামলা দেয়া হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য
Loading...