এসএসসির ফল : ছেলেদের জন্য সতর্ক সংকেত

৬৬

এসএসসির পরীক্ষার ফল ছেলেদের জন্য এক সতর্ক সংকেত দিয়ে যাচ্ছে। প্রমাণ করে দিয়ে যাচ্ছে- পড়ার টেবিলে না ফিরলে কোনো উপায় নেই। বই ফেলে সারা দিন অহেতুক এ দিক সে দিক সময় কাটালে মেধা শানিত না হয়ে ভোতা হবে। ছেলে বা পুরুষের গর্ব নিয়ে থাকলে ওই গর্বে ঘাস-জল খাবে না। সারা দেশে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। মেয়েদের পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭৯। পক্ষান্তরে ছেলেদের পাসের হার ৮৫ দশমিক ৮২। গত তিনটি পরীক্ষার ফল একই রকম। ১৯১৯ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ২৫ এবং ছেলেদের পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৫৩। ১৯১৮ সালে মেয়েরা পাস করে ৭৮ দশমিক ৮৭ ভাগ এবং ছেলেরা ৭৪ দশমিক ৪৪ভাগ। ১৯১৭ সালে মেয়েরা ৮২ দশমিক ১৪ এবং ছেলেরা ৭৮ দশমিক ০১ ভাগ পাস করে। এই যে সাফল্য তা এমনিতেই আসেনি। কেউ স্বজনপ্রীতি করেও তাদেরকে এগিয়ে দেয়নি।
শিক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞগণ বার বার শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে আসার জন্য বলছেন। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য পড়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের তরুণরা বিশেষ করে ছাত্ররা এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসিন। আরো বেশি উদাসিন তাদের অভিভাবকরা। ছেলে সারা দিন কোথায় থাকে, কী করে তার কোনো খোঁজ এখন অধিকাংশ অভিভাবক রাখে না। রাতে ঘরে ফিরলেও সে পড়ে না অন্য কিছু করে তাও দেখার প্রয়োজন বোধ করে না এ সব অভিভাবকরা। আর মূলের সর্বনাশটা হচ্ছে ছেলের হাতে একটা মোবাইল ধরিয়ে দেয়া। এই মোবাইলে যুব সমাজকে যে কি ভাবে কুরে কুরে খাচ্ছে তা বোধ করি মাদকের নেশায়ও করে না। একজন ছাত্র যখন স্কুলে রওনা হয় তখন তার কাছে মোবাইল নামক এই সর্বনাশা যন্ত্রটি থাকার কি কোনো প্রয়োজন আছে? অভিভাবকরা তো দেখছে। কিন্তু কিছুতো বলছেই না বরং আহ্লাদে গদগদ হচ্ছে নিজেকে যোগ্য ছেলের বাপ ভেবে। বাড়ি থেকে মোবাইল এনে ওই ছাত্ররা ক্লাসে ব্যবহার করে, যখন শিক্ষক ক্লাস নেন। এর চেয়ে সর্বনাশ আর কি হতে পারে? যতদূর জানা যায় মেয়েরা এ ক্ষেত্রে অনেকটা সংযত। মেধায় অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও নিয়মিত লেখাপড়া চর্চার কারণে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। লোহার তৈরি কোনো অস্ত্র ব্যবহার না করে ফেলে রাখলে কিছুদিন পর তাতে মরিচা ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবার নিয়মিত ব্যহার করলে সেটি চকচকে থাকে। মেধা ঠিক তেমনি। চর্চায় তা শানিত হয়। ছাত্রদের পেছনে এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতারা লেগে থাকে তাদের ফায়দা হাসিলের জন্য। তরুণ শিক্ষার্থীরা ব্যবহৃত হয় ওই সব নেতাদের দ্বারা। এতে তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়। অনেকেতো নেতা হবার মোহে পাগল হয়ে ওঠে। কিন্তু ছাত্রীদের ক্ষেত্রে নেতাদের খপ্পরে পড়ার সুযোগ এখনো অনেক কম। এ কারণে তারা পড়ার টেবিলে কাটায় বেশি। যার প্রমাণ এবারের এইচএসসির ফল।

মন্তব্য
Loading...