যশোরে চার করোনারোগী সুস্থ : শনাক্ত আরো ৫

২২৪

রাজু আহমেদ

যশোর জেলায় আরো ৪ জন কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছে। একইসাথে নতুন করে আরো ৫ জন শনাক্ত হয়েছে। রোববার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো ৫১ ও যবিপ্রবি জিনোম সেন্টার ল্যাবে ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল সোমবার ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগী সংখ্যা ১১২ জনে দাঁড়িয়েছে। আর সুস্থ হয়ে উঠেছে ৭৮ জন। একই দিনে করোনা আক্রান্ত সন্দিগ্ধ ৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য যবিপ্রবি জিনোম সেন্টার (২৫টি নমুনা) ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) ল্যাবে ৫৪টি নমুনা পাঠানো হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন।

নতুন শনাক্ত ৫ জনের মধ্যে যবিপ্রবি ল্যাবে ২ জন ও খুমেক ল্যাবে ৩ জন শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত ৫ জনের মধ্যে দুজন সদর উপজেলার, শার্শা উপজেলার দুজন এবং একজন অভয়নগর উপজেলার বাসিন্দা। আর সুস্থ হয়ে উঠা ৪ জনের মধ্যে একজন সদর, একজন ঝিকরগাছা এবং দুজন মণিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা।
যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার রেহেনেওয়াজ বলেন, যশোর জেলায় মোট ১১২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত ১১২ জনের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৪১ জন, চৌগাছা উপজেলায় ১৫ জন, কেশবপুর উপজেলায় ১২ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ১১ জন, শার্শা উপজেলায় ১২ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৭ জন, অভয়নগর উপজেলায় ১০ জন এবং বাঘারপাড়া উপজেলায় ৩ জন।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত ১১২ জনের মধ্যে ৭৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৮ জন, চৌগাছা উপজেলায় ১৩ জন, কেশবপুর উপজেলায় ১৪ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ৭ জন, শার্শা উপজেলায় ৮ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৬ জন, অভয়নগর উপজেলায় ৩ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় দুজন এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ১৭ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে জেলায় মোট ৩৪ জন করোনারোগী রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে পাঁচজন টিবি হাসপাতালে, একজন মণিরামপুর এবং তিনজনকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাকিরা বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছে।
সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, আমাদের মেডিকেল টিম করোনারোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাছাড়া আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। ওইসব রোগীর পরিবার ও সংস্পর্শে আসা মানুষের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, যারা নির্দেশ অমান্য করবে তাদের ব্যাপারে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্দেশ অমান্যকারীদের জেল-জরিমানা করবে। এ পর্যন্ত যশোর জেলায় মোট ১১২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৭৮ জন। বর্তমানে ৩৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সিভিল সার্জন আরো জানান, সোমবার যশোরের করোনা আক্রান্ত সন্দিগ্ধ আরো ৭৯ জনের নমুনা করোনা পরীক্ষার জন্য যশোর যবিপ্রবি জিনোম সেন্টার (২৫টি নমুনা) ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) ল্যাবে ৫৪টি নমুনা পাঠানো হয়েছে।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যশোর জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রোগী সংখ্যা বাড়লেও সামাজিক দূরত্ব মানছেন না সাধারণ মানুষ। সোমবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক। শহরের বিভিন্ন জায়গায় এবং হাটবাজারে দিব্যি কেনাকাটায় ব্যস্ত লোকজন। রাস্তায় অটোরিকশা, ইজিবাইক, রিকশা চলছে সমানতালে। সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই কোথাও।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের প্রস্তুতি আছে, তবে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বেশি বেশি বজায় রাখতে হবে।

মন্তব্য
Loading...