দেশে আক্রান্ত ছাড়ালো ১২ হাজার

৪৭
প্রণব দাস

শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের করাল গ্রাস থেকে বাদ পড়লো না বাংলাদেশের পর্যটন জেলা রাঙামাটিও। দেশের মধ্যে শুধুমাত্র এই জেলাটিই এ ভাইরাসে সংক্রমণের বাইরে ছিল। এ জেলায় ৬ মে প্রথমবারের মতো একসাথে ৪ জন করোনারোগী শনাক্ত হয়েছে।
এরফলে সমগ্র বাংলাদেশে মহামারি কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) ছড়িয়ে পড়েছে। একইসাথে বাংলাদেশে ৮ মার্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ৬১তম দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়ে গেল।

রাঙামাটিতে আক্রান্তদের মধ্যে দুজন হাসপাতাল এলাকার এবং একজন করে দেবাশীষ নগর ও রিজার্ভ বাজারের। রিজার্ভ বাজারে আক্রান্ত ৯ মাসের শিশু। এছাড়া হাসপাতাল এলাকায় আক্রান্ত এক নারীর বয়স ৩৮, পুরুষের বয়স ৫০ এবং দেবাশীষ নগরে আক্রান্তের বয়স ১৯ বছর।
রাঙামাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা নিয়ন্ত্রণে কক্ষের নিয়ন্ত্রক ডা. মোস্তফা কামাল ৬ মে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় (৭ মে ২০২০ সকাল ৮টা পর্যন্ত) বাংলাদেশে নতুন করে ৭০৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে ভাইরাস সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ হাজার ৪২৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৩০ জন এবং মোট সুস্থ হলেন ১,৯১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫,৮৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এনিয়ে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৫১৩ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে।
৭ মে ২০২০ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ এ কতজন মারা গেছে, তা জানানো হয়নি নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে। ওই তথ্য পরবর্তীতে রিপোর্টের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা। গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৮৬।
৮ মার্চ ২০২০ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্তরোগী শনাক্ত হয়। ৭ এপ্রিল আক্রান্ত ১০০ অতিক্রম করে দাঁড়ায় ১২৩। ১৪ এপ্রিল আক্রান্ত হাজার পেরিয়ে হয় ১০১২ জন। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশে শনাক্তের ৪০তম দিনে আক্রান্ত ২ হাজার পেরিয়ে দাঁড়ায় ২১৪৪।
২৬ এপ্রিল বাংলাদেশে মোট শনাক্তের ৫০তম দিনে আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওই দিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল ৫৪১৬ জন।
এদিকে অদৃশ্য প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) বাংলাদেশের আট বিভাগের সবকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়নি। ৬ মে দেশের মোট আক্রান্তের ৮৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায়। ঢাকা বিভাগের আক্রান্তের মধ্যে ঢাকা সিটিতেই ৫৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) ওয়েবসাইট এ প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়- বাংলাদেশে ৮ মার্চ করোনারোগী শনাক্ত হয়। প্রথমদিকে সীমিত আকারে পরীক্ষা করলেও পরবর্তীতে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এ সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে বাড়তে ৫০তম দিনে করোনারোগী ৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ; এদিন শনাক্ত হয় তিনজন। এরপর ৬ দিন অর্থাৎ ১৪ মার্চ পর্যন্ত কোনো সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রথমদিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা।
৯ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা শত পেরিয়ে হয় ১১২ জন। ১০ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯৪ জন। ১১ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা আরো কমে যায়। এদিন শনাক্ত হয় ৫৮ জন।
এরপর ক্রমশ বেড়েইে চলেছে শনাক্তের সংখ্যা। ১২ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত যথাক্রমে ১৩৯, ১৮২, ২০৯, ২৬৮, ২৯২, ২৬৬ ও ৩০৬ জন শনাক্ত হয়।
১৯ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত যথাক্রমে ৩১২, ৪৯২, ৪৩৪, ৩৯০, ৪১৪, ৫০৩, ৩০৯, ৪১৮, ৪৯৭ ৫৪৯ জন শনাক্ত হয়। ২৯ এপ্রিল আক্রান্ত ৬০০ পেরিয়ে হয় ৬৪১ জন। ৩০ এপ্রিল, ১ ও ২ মে যথাক্রমে ৫৬৪, ৫৭১ ও ৫৫২ জন আক্রান্ত। ৩ মে বাংলাদেশে নতুন করে আরো ৬৬৫ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর ৪ মে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮৮ জনে। ৫ মে সাতশ’ পেরিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৮৬। পরেরদিন ৬ মে ৭৯০ জন শনাক্ত হয়। এটাই এ যাবৎকালের সবোর্চ্চসংখ্যক করোনাভাইরাসে আক্রান্তরোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা।
এদিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস যখন বিশ্বনেতাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তখন বাংলাদেশেও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৮ মার্চ আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বাংলাদেশে প্রথম করোনভাইরাস শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর ১ মে পেরিয়ে গেছে ১ মাস ২৪ দিন।
দেশে প্রথম যে তিনজন ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির কথা জানা যায়, তারা একই পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং এর মধ্যে দুইজন ইতালি থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
করোনা মহামারির সার্বক্ষণিক তথ্য প্রকাশ করছে ওয়ার্ল্ডোমিটারস ডট ইনফো। এই ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ৭ মে ২০২০ জিএমটি ১০.৩০টায় এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সোয়া ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৮১৯। মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৬। আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৩ লাখ ৮ হাজার ২০১ জন। আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৩ শতাংশ এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ শতাংশ।
উল্লেখ্য, চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল|

পিকে/তুহিন

মন্তব্য
Loading...