বাংলাদেশে ৮ দিন ধরে ৫ শতাধিক করে শনাক্ত

৫৯
প্রণব দাস

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিনই পাঁচশতাধিক অদৃশ্য প্রাণঘাতী মহামারি কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। ৮ দিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। আর গত চব্বিশ ঘণ্টায় (৫ মে ২০২০ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৭৮৬ জনের নতুন করে শনাক্ত হয়েছে। এরআগে ২৮ এপ্রিল ৫৪৯ জন শনাক্ত হয়। ২৯ এপ্রিল আক্রান্ত ৬০০ পেরিয়ে হয় ৬৪১ জন। ৩০ এপ্রিল, ১ ও ২ মে যথাক্রমে ৫৬৪, ৫৭১ ও ৫৫২ জন আক্রান্ত। ৩ মে সবচেয়ে বেশি ৬৬৫ করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়। এটাই এ যাবৎকালের সবোর্চ্চসংখ্যক করোনাভাইরাসে আক্রান্তরোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা। এরপর ৪ মে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮৮ জন।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১০৯২৯ জন মানুষের করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে নতুন করে মারা গেছেন একজন। এনিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১৮৩ জন। ১৯৩ জন নতুন করে সুস্থ হয়েছেন, এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪০৩ জন। ৫ মে ২০২০ দুপুরে স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় হাজার ১৮২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় পাঁচ হাজার ৭১১টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৯৩ হাজার ৪০৫টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭৮৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি গতকালের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড।
তিনি আরো জানান, করোনা চিকিৎসায় রাজধানীসহ সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৮৫৯৪টি। তন্মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২৯০০টি এবং রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৬৯৪টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে ৩৩০টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি।
বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) ওয়েবসাইট এ প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়- বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হয়। প্রথম দিকে সীমিত আকারে পরীক্ষা করলেও পরবর্তীতে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এ ক্রমশ বাড়তে বাড়তে ৭ এপ্রিল আক্রান্ত ১০০ অতিক্রম করে দাঁড়ায় ১২৩। ১৪ এপ্রিল আক্রান্ত হাজার পেরিয়ে হয় ১০১২ জন। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশে শনাক্তের ৪০তম দিনে আক্রান্ত ২ হাজার পেরিয়ে দাঁড়ায় ২১৪৪ জন, ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশে মোট শনাক্তের ৫০তম দিনে আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওই দিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল ৫৪১৬ জন। আর ৫৮তম দিনে ১০ হাজার ছাড়িয়ে হয় ১০১৪৩ জন।
এদিকে অদৃশ্য প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) বাংলাদেশের আট বিভাগের সাত বিভাগের ৬৩ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলায় এখনও পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়নি। দেশের মোট আক্রান্তের ৮৩ দশমিক ৩১ শতাংশ ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায়। ঢাকা বিভাগের আক্রান্তের মধ্যে ঢাকা সিটিতেই ৫৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
এদিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস যখন বিশ্বনেতাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তখন বাংলাদেশেও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৮ মার্চ আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বাংলাদেশে প্রথম করোনভাইরাস শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দেশে প্রথম যে তিনজন ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির কথা জানা যায়, তারা একই পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং এর মধ্যে দুইজন ইতালি থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
উল্লেখ্য, চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল।
৫ মে ২০২০ জিএমটি ০৯.৩১ এ ওয়ার্ল্ডওমিটারে প্রকাশিত তথ্যমতে, এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সোয়া ৩৬ লাখ ৬০ হাজার ৪৭১। মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৫২ হাজার ৬৮১। আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১২ লাখ ৩ হাজার ৯৯৫ জন। আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৩ শতাংশ এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ শতাংশ।
পিকে/তুহিন

মন্তব্য
Loading...