বনগাঁয় আন্দোলন, বেনাপোলে আমদানি বন্ধ

২৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি বন্ধ করার দাবিতে রোববার দুপুরে বনগাঁ থেকে ছয়ঘরিয়া পর্যন্ত তৃণমুল কংগ্রেসের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের ফলে পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল বন্দরে আবারও পণ্য রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৪১ দিন বন্ধ থাকার পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বেনাপোল পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু হয়।
ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্য সরকারের (তৃণমুল কংগ্রেস মমতাপন্থী) সমর্থকদের দাবি ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি হলে ওই ট্রাকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে করোনা ভারতে আসতে পারে।
করোনাভাইরাসের কারণে ভারত সরকার লকডাউন ঘোষণা করায় ২১ মার্চ বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৪১ দিন বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হয়। পেট্রাপোল বন্দরের সেন্ট্রাল পার্কিং থেকে পণ্য বোঝাই ভারতীয় ট্রাক নোম্যান্সল্যান্ডে আসলে সেখান থেকে বাংলাদেশি ট্রাকে পণ্য আনলোড করে বাংলাদেশে আনা হয়। পণ্য বোঝাই ট্রাক নোম্যন্সল্যান্ডে আসলে সেখানে উভয় দেশের পক্ষ থেকে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয় উভয় দেশের ট্রাকে। তবে কাজগপত্র লেনদেন ও লোড-আনলোডে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা হয়নি। ২দিনে ভারত থেকে ১৫ ট্রাক পাট বীজ, মেস্তা বীজ ও ভূট্টা বীজ আমদানি হয়। বনগাঁ উত্তরের সাবেক এমএলএ গোপাল শেঠ ও বনগাঁ পৌর সভার মেয়র শংকর আঢ্য ডাকু পণ্য রফতানিতে বিরোধিতা করে কালিতলা পার্কিং থেকে কোন পণ্য বোঝাই ট্রাক ছাড়েনি। সাধারণ জনগণকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে আন্দোলন শুরু করে দেয়। কালিতলা পার্কিং এ বর্তমানে ১৯৮৩টি বিভিন্ন ধরণের ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। এসব ট্রাক থেকে বনগাঁ পৌরসভা প্রতিদিন ছোট গাড়ি ৫০ টাকা, ৬ চাকা ৮০ টাকা, ১০ চাকা ১২০ টাকা ও ট্রেলার ১৬০ টাকা হারে পার্কিং চার্জ আদায় করে থাকে।
ইন্দ বাংলা চেম্বার অব কমার্সের সাব কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, বেনাপোল- পেট্রাপোল বন্দরে করোনার কারণে দীর্ঘ ৪১ দিন বন্ধ থাকার পর দু’দেশের উপরিমহলের নির্দেশে বন্দরে আমদানি-রফতানি চালু করা হয়।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, সরকারি ও কাস্টমসের পক্ষ থেকে আমদানি-রফতানি বন্ধ করা হয়নি। তবে, রফতানি বাণিজ্য চালু থাকলে ট্রাক ড্রাইভারদের মাধ্যমে করোনা ছড়াতে পারে, এমন অজুহাতে তৃণমূল কংগ্রেসের বনগাঁ উত্তরের সাবেক এমএলএ গোপাল শেঠ ও পৌর মেয়র শংকর আঢ্য ডাকু জনগণকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে আন্দোলন করে পণ্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ম্যানেজার শুভজিত মন্ডল বলেন, সরকারিভাবে পেট্রাপোল বন্দর চালু আছে। কিন্তু কিছু সাধারণ জনগণ করোনা সংক্রমণের আশংকায় বনগাঁয় আন্দোলন করায় পণ্য রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা খবর রাখছি পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার কাজ হবে।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, ভারত থেকে ২দিনে ১৫ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। নোম্যান্সল্যান্ডে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধিবিধান মেনেই লোড-আনলোড করা হয়েছে। ভারতে জনগণের আন্দোলনের জন্য রোববার কোন পণ্য আমদানি হয়নি। পেট্রাপোল বন্দর পণ্য দিলে বেনাপোল বন্দরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।
পিকে/তুহিন
মন্তব্য
Loading...