মহান স্বাধীনতা দিবস 

0 ১৭

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৪৯ বছর আগে স্বাধীন হয়েছিল। পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার শেষ সূর্য অস্তমিত হবার পর বিদেশি শাসনের হাত বদলের পালায় ২৪ বছর পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের যাতাকলে কাটাতে হয়েছে এ দেশবাসীকে। ওই ২৪ বছর তথাকথিত স্বাধীনতার নামে ধর্মের ছদ্মাবরণে এ দেশবাসীকে শোষণ বঞ্চনার অক্টোপাসে আটকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছিল। এ অবস্থার ভেতর থেকে জাতি যখনই বেরিয়ে আসতে চেয়েছে তখনই অত্যাচারের স্টিমরোলার চালানো হয়েছে। কিন্তু গর্বিত ইতিহাসের ধারক কোনো জাতিকে এভাবে দাবিয়ে রাখা যায় না, ইতিহাসের এ শিক্ষা থেকে পাকিস্তানিরা শিক্ষা না নেয়ায় তাদেরকে পাত্তাড়ি গোটাতে হয়। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করে। পাকিস্তানিদের  সে শোচনীয় পরাজয় ইতিহাসের কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

গণমানুষের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রণোদনা, যা দেশটির পবিত্র সংবিধানে স্বীকৃত। কিন্তু একটা দীর্ঘ সময় সে অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্রকে উদাসীন থাকতে দেখা গেছে। গণতন্ত্র যে দেশের চালিকাশক্তি সে দেশে সরকার যদি গণমানুষের স্বার্থ তথা অধিকাকে গুরুত্ব না দেয় তাহলে সেই সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেই, এটা ইতিহাস স্বীকৃত সত্য। ৪৮ বছরের ইতিহাসে তাই দেখা গেছে। ক্ষমতার দাম্ভিকতায় অনেক কিছু পদদলিত করা যায়; কিন্তু অবদমিত করা যায় না মানুষের প্রতিবাদ বা ঘৃণাকে।

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় চেতনা শানিত হোক ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, বলিষ্ঠ হোক স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ। একটি সুখী, সুন্দর সমৃদ্ধ জাতি গড়ার মানসে সবাই উন্নয়নের পথে হাটুক, হাটুক উন্নয়নের মহাসড়কে। এ দেশের মানুষকে শান্তির ছায়াতলে নিশ্চিন্তে বসবাসের লক্ষ্যে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে নির্বাসিত করার শপথ নিতে হবে। কেননা এ দুটি অকল্যাণকর বিষয়ের  সাথে সহাবস্থান করে কোনো দিন উন্নয়ন হতে পারে না। আর উন্নয়ন না হলে সুখ,শান্তি সমৃদ্ধি কিছুই আসবে না। যত বাধা    বিপত্তি আসুক না কেন সব কিছু এড়িয়ে গণতন্ত্রকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এ কথা সত্য যে একটি সমৃদ্ধ দেশের প্রধান এ দুটি অনুসঙ্গ সরকারের ক্ষমতাকে নড়বড়ে করে না, করে দৃঢ়। এ ক্ষেত্রে অতীত সরকারগুলোর ভুলের বা অহংকারের খেশারত দিতে হয়েছে, যা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।

বঞ্চনা বৈষম্য এখনো পুরোমাত্রায় বিদ্যমান। মহান স্বাধীনতা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক এই কালিমা মুছে একটি সুষম সমাজ প্রতিষ্ঠা করার। কাউকে দূরে ঠেলে দিয়ে নয়, দেশপ্রেমিক সবাইকে সাথে নিয়ে, বিভেদ ভুলে  এগিয়ে চলতে পারলে যত কঠিন হোক না কেন তা সহজেই মোকাবিলা করা যাবে। পদ্মা সেতু দৃশ্যমান গতিতে এগিয়ে চলা তার একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

মহান স্বাধীনতা দিবস অমর হোক। স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালি এগিয়ে চলুক, আজকের এ দিনে এ কামনা করি।

 

মন্তব্য
Loading...