বিরহ বেদনায় যশোরে শিশুর আত্মহত্যা

0 ৫৯

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার আজমেহেরপুর গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হানজালা আত্মহত্যা করেছে। শিশুটি তার দাদা-দাদির কাছে থাকতো। বাবা জাকারিয়া হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করে হানজালার মা ও তাকে ফেলে অন্য জায়গায় থাকে। সম্প্রতি তার মাও তাকে দাদার বাড়িতে রেখে বাপের বাড়ি চলে গেছে। গত ২০ মার্চ এ আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে যে শিশুটি তার বয়স কতই বা হবে। বড় জোর নয়-দশ বছর। মা-বাবা থেকেও আজ তার কেউ নেই। শিশুমনের ওপর এ বিরহ বেদনা তাকে আত্মহত্যার পথে টেনে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা দিনকে দিন যেন বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকে অনেক রকম করে ভাবছেন। সবার লক্ষ্য এ থেকে মানুষকে বাঁচানোর পথ বের করা। আত্মহত্যা যে করতে চায় তার একাকিত্ব দূর করতে তার কাছে সব সময় ইতিবাচক বিষয় তুলে ধরতে হবে। কেননা যার জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয় সে একাকি থাকার সুযোগ পেলে আত্মহননের সিদ্ধান্তটি দ্রুত কার্যকর করতে তার জন্য সহায়ক হয়। আমরা এমন একটি সমাজে বাস করি যেখানে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নেই। এ কারণে বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হচ্ছে, যা আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তখন মানুষের সহমর্মিতা না পাওয়ার ফলে ওই ব্যক্তি অন্যদের থেকে দূরে চলে যায়। এ সময় যদি সাহায্যের হাত বাড়াতে পারি তাহলে আত্মহত্যা থেকে পরিত্রাণ সম্ভব।
আত্মহত্যা একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এর পেছনে রাষ্ট্রের দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি জড়িত। রাষ্ট্রে যখন বেকারত্ব বাড়ে এবং অবিচার হয় তখন আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। আমরা যদি এর দায়িত্ব না নেই তাহলে এ হার আরো বাড়বে। যারা হতাশায় আছে তাদেরকে বুঝতে হবে জীবন অনেক সুন্দর। একবার ব্যর্থ হওয়া মানে সব শেষ নয়। জীবনে অনেক সুযোগ আসবে।
আত্মহত্যা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত নয়। এ কারণে প্রচলিত আইনে আত্মহত্যার চেষ্টাকারীকে সাজার মুখে পড়তে হয়। আর ইসলাম ধর্মে তো একটি বড় গোনাহ। এ ধর্মে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, যে আত্মহত্যা করবে সে কবিরা গোনাহ অর্থাৎ বড় গোনাহের কাজ করবে। তাহলে আমাদের বুঝতে বাদ থাকছে না যে কোনোক্রমেই আত্মহত্যা করা যাবে না। নানাভাবে নানা কৌশলে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে আত্মহত্যা করার ভেতর কোনো কৃতিত্ব নেই। এ ধরাধামে বেঁচে থেকে ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিকে এগোতে হবে। মানুষ হয়ে যখন জন্ম নেয়া হয়েছে তখন চলার পথ কোথাও কুসুমাস্তীর্ণ কোথাও কন্টকিত। কন্টকিত পথ চলতে গিয়ে এই যে অবস্থা তাতে জীবনের স্বাদ আছে, বৈচিত্র্য আছে। এভাবে জীবন না হলে তো সে জীবন মূল্যহীন হয়ে যায়।

মন্তব্য
Loading...