জীবননগরে আলুর গ্রাম কাটাপোল

0 ১৯১

রমজান আলী, জীবননগর : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নিভৃত এক গ্রামের নাম কাটাপোল। এ গ্রামের মানুষের এক সময় একমাত্র চাষ ছিল ধান। কিন্তু ধান চাষে বারবার লোকসানের কারণে কৃষক ধানচাষের পরিবর্তে ঝুঁকে পড়েন সবজি চাষে। বিভিন্ন প্রকারের সবজির মধ্যে আলু অন্যতম। কাটাপোল গ্রামের ৯০ ভাগ মানুষ আলুর আবাদ করে আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করেছেন। মওসুমের শুরুতে বাড়ির উঠানে উঠানে আলুর স্তূপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিটি ঘরে চলছে আলু বস্তাজাতকরণ ও বিক্রির জন্যে পরিষ্কারের আয়োজন। নারী-পুরুষ এমনকি বাড়ির কিশোর-কিশোরী সবাই আলু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সরজমিনে কাটাপোল গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ আলুর ক্ষেত। ইতিমধ্যেই অনেক চাষি বেশি লাভের আশায় ক্ষেত থেকে আলু উঠিয়ে তা বাড়ির উঠানে নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বস্তাজাত করা হচ্ছে। কাটাপোল গ্রামের কৃষকের উৎপাদিত আলুকে কেন্দ্র করে একাধিক পাইকারি ব্যবসায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে আলু কিনতে তাদের সাথে কথাবার্তা বলছেন কিংবা চুক্তি করছেন। কাটাপোল গ্রামের ৯০ ভাগ কৃষক আলুর আবাদ করেছেন। গ্রামের যেসব কৃষকের নিজস্ব জমি নেই, তারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে আলুর চাষ করেছেন। প্রতিদিন এই গ্রাম থেকে ৮-১০ ট্রাক আলু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার আলুর ফলন যেমন বাম্পার হয়েছে তেমন দামও বেশ ভালো পেয়েছেন বলে কৃষকদের দাবি। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে ৯০-১০০ মণ করে আলু উৎপাদন হচ্ছে। মওসুমের শুরুতে কৃষকেরা প্রতি কেজি আলু ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও বর্তমানে প্রতি কেজি আলু তা ১০-১১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাটাপোল গ্রামের আলুচাষি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, চলতি মৌসুমে আমার ১২ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ জমির আলু তুলে বিক্রি করে দিয়েছি। প্রতি বিঘা আলু চাষে উৎপাদন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা। আর তা থেকে আয় হয়েছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আলুর দাম অনেক বেশি পাওয়া গেছে। পুরো মওসুমজুড়ে আবহাওয়া ভালো থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের গ্রামে আলুর চাষ করেননি এমন চাষি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি প্রতি মওসুমে গ্রামের চাষিদের কাছ থেকে পাইকারি দরে আলু কিনে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করি।
হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও কাটাপোল গ্রামের বাসিন্দা আতিকুজ্জামান সন্টু বলেন, আমাদের গ্রামকে আলুর গ্রাম বলার পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে। আমাদের গ্রামের যত মানুষ কৃষির সাথে জড়িত তার শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ কম-বেশি আলু চাষ করে থাকেন। গ্রামের যে লোকটি অন্যের ক্ষেতে শ্রম বিক্রি করেন তিনিও অন্যের জমি লিজ নিয়ে আলুর আবাদ করেছেন। গ্রামে এবার ৫০০-৬০০ বিঘা জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। আমার নিজেরই সাড়ে ১২ বিঘা জমিতে আলুর চাষ রয়েছে। আমাদের গ্রামের মোক্তার মন্ডল সবচেয়ে বেশি আলুর আবাদ করেছেন। তার এ বছর ২২ বিঘা জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। এ বছর আলুর ফলনও বাম্পার হয়েছে, আবার দামও ভালো পাওয়া গেছে। এবার যে দাম পাওয়া গেছে, গত ১৫ বছরেও আলুর এমন ভালো দাম পাওয়া যায়নি।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারমিন আক্তার বলেন, চলতি বছর উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৭০০ হেক্টর জমি হলেও চাষ হয়েছে ৮৭০ হেক্টর জমিতে। এবার আলুর ফলন ও দাম দুই-ই ভালো। কাটাপোল গ্রামে সবচেয়ে বেশি আলুর আবাদ হওয়ায় এ গ্রামকে এলাকাবাসী আলুর গ্রাম বলে থাকেন। আলুর চাষ করেন না এমন চাষি কাটাপোল গ্রামে খুঁজে পাওয়া দায়।

মন্তব্য
Loading...