শিক্ষকরাই নোট-গাইডের পৃষ্ঠপোষক

0 ১৩

শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় নিষিদ্ধ নোট-গাইড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালানো হচ্ছে। মানুষ গড়ার কারিগরদের সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করার প্রবণতা কোনোক্রমেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা বরাবরই এ কথা দৃঢ়তার সাথে বলে আসছি। আমাদের কথার প্রমাণ করলেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ধনঞ্জয় মল্লিক। গত রোববার ওই স্কুলের ১০ শ্রেণির ছাত্রীরা গাইড বই না নিয়ে ক্লাসে যাওয়ায় নির্দয়ভাবে ১৫ ছাত্রীকে কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রীতিরানী ও ঔশী কর্মকার গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ওই ছাত্রীদের অপরাধ ছিল তারা শিক্ষকদের নির্দেশ মতো নবদূত প্রকাশনীর গাইড কেনেনি। আমরা আগেও বলেছি অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিষিদ্ধ নোট-গাইড বই কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেন। আর এর পেছনে হাত আছে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির। এই সমিতি যে প্রকাশনা সংস্থার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তাদের বই কেনার জন্য সমিতিভুক্ত শিক্ষকদের বলে দিয়েছে। চুক্তিবদ্ধ প্রকাশনার সেই বই কেনার সিদ্ধান্ত শিক্ষকরা বাস্তবায়ন করছে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কিনিয়ে।
সারাদেশে চলছে এই বহুল আলোচিত নোট-গাইড বইয়ের বাণিজ্য। বাজারে দেদার পাওয়া যাচ্ছে পাঞ্জেরি, লেকচার, জুপিটার, পপি, ফুলকুড়ি, অনুপম এবং স্টুডেন্ট কমিউনিকেটিভ ইংলিশ গ্রমার, ট্রানসিলেকশন অ্যান্ড কমপজিশন্স এবং শব্দশৈলী বাংলা-ভাষার ব্যাকরণ ও নিমিত্তি। এসব গাইড কিন্তু গোপনে বেচাবিক্রি হচ্ছে না। শিক্ষকরা ক্লাসের ব্লাকবোর্ডে অথবা শিক্ষার্থীদের খাতায় গাইড বইয়ের নাম লিখে দিচ্ছেন। সেই গাইড বই না কিনলে শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে দেয়া হচ্ছে না। অনেকের অন্য প্রকাশনার গাইড থাকলেও তা মানছেন না শিক্ষকরা। প্রকাশনা সংস্থাগুলো প্রধান শিক্ষকদের মোটা অঙ্কের টাকায় বশ করে নিচ্ছে। আর এই আর্থিক সুবিধার কারণে মানুষ গড়ার কারিগররা শিক্ষাদানের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে অনৈতিক পথে পা বাড়িয়েছেন। এই গাইড বই প্রকাশ্যে দোকানে বিক্রি হচ্ছে। সরকার এ নিয়ে এত চিৎকার করছে, মিডিয়াগুলো সোচ্চার, কিন্তু কেন জানিনে গাইড বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
একদিকে নোট-গাইড কেনা অন্য দিকে কোচিং ফি এসব নানাবিধ অর্থনৈতিক যাঁতাকলে নিষ্পিষ্ট হচ্ছেন দরিদ্র অভিভাবকরা। স্বল্প আয়ের অতি সাধারণ মানুষ আজ শিক্ষকদের আর্থিক লোলুপতার কারণে চিড়ে চেপ্টা হয়ে যাচ্ছেন। একদিকে অভিভাবকদের এই দশা অন্য দিকে শিক্ষকরা কোচিং নামক সর্বকালের সর্বনিকৃষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন আনন্দ ও বিনোদন। যার কারণে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’এর নামে কিছু রোবট বের হচ্ছে।
আমরা বলতে চাই, গাইড বইয়ের কারবার প্রকাশ্যে চলছে, প্রকাশ্যে বসছে কোচিং নামের যাঁতাকলও। উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে ঊর্র্ধ্বতন সকল কর্মকর্তারা বিষয়গুলো জানেন। শুধু সাতক্ষীরা নয় দেশজুড়েই নোট-গাইডের কারবার চলছে। যার পৃষ্ঠপোষক হলেন শিক্ষকরা।
আমরা মনে করি, এ অনৈতিক কারবার বন্ধ না হওয়াটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বেরিয়ে আসতে নোট-গাইড ব্যবসা অবিলম্বে বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্তব্য
Loading...