জীবননগরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন

হুমকির মুখে মন্দির-কৃষি জমি

৭৮

জীবননগর প্রতিনিধি : জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারী গ্রামের সনাতন ধর্মবিশ্বাসী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মন্দির ঘেঁষে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। ভেক্যু মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে মন্দির ও পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি ধসে বালিগর্তে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের অভিযোগ, বালি উত্তোলনকারী প্রভাবশালী ব্যক্তি জেমস আইনকানুনকে তোয়াক্কা না করে দেদারছে বালি উত্তোলন করে যাচ্ছেন।
উপজেলার শিয়ালমারী আদিবাসী পল্লীতে সরেজমিনে দেখা যায়, মন্দির ঘেঁষে উথলী গ্রামের আতিয়ার রহমান বিশ্বাসের ছেলে আমিনুর রহমান জেমসের জমি থেকে কয়েক দফায় ভেক্যু মেশিন দিয়ে কিছু বালি উত্তোলন করেন। কিন্তু তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাধ্য হয়েই ভেক্যু মেশিন সরিয়ে নেন। তারপরও বালি তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠেন জেমস। বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে ধরনা দিতে থাকেন উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনোকিছুতেই বালি উত্তোলনের সুযোগ মেলে না তার। এই অবস্থায় গত দুইদিন আগে আবারও সেখানে ভেক্যু মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন শুরু করেছেন।
শিয়ালমারী গ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, তারা জেমসকে মন্দিরের নিকট থেকে বালি উত্তোলন করতে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু জেমসের কথা মন্দির ধসে গেলে মন্দির করে দেবে। অন্যদিকে এলাকার কৃষি জমিও ধসে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন কৃষকেরা। ভুক্তভোগীরা বালি উত্তোলনে বাধা দিলে জেমস তাদেরকে নানাভাবে হুমকিধামকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আদিবাসী সম্প্রদায়ে রেখা রানী ও অবনাথ বলেন, আমরা মন্দিরের পাশ থেকে বালি তুলতে নিষেধ করেছি। কিন্তু জেমস কোনো কথা শুনছে না। তার কথা মন্দির ভেঙে গেলে তা নির্মাণ করে দেবে। সে আমাদেরকে বলেছে, আমি বালি তুলব, তোমরা যা পারো করো!
এলাকার কৃষকদের দাবি, জেমস বলছেন পুকুরের পাড় বেঁধে দিলে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু একাধারে ৫-৭ দিন বৃষ্টি হলে জমি বালিগর্তে ধসে যাবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। জেমস বর্তমানে ক্ষমতাসিন দলের ছত্রছায়ায় থাকায় তাকে এবার আর বালি তোলা থেকে নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আমিনুর রহমান জেমস মন্দিরের নিকট থেকে বালি উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, মন্দির যাতে ধসে না পড়ে সেজন্য আগেই তা মাটি দিয়ে বেঁধে দিয়েছি। তারপরও আমি তো আছি। সমস্যা হলে দেখব। আর এমপি সাহেবের ভাই আরিফ ও ফারুক বালি নিচ্ছে। উথলী রোডে ও সন্তোষপুরে রোডে দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিয়ালমারী কেউ বালি উত্তোলন করছেন কি-না আমার জানা নেই এবং আমাকে বালি উত্তোলনের ব্যাপারে কেউ কিছু বলেনি। তবে আমি ঘটনাটি দেখে ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য
Loading...