নওরীণ সাদেকের তৎপরতায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া

‘অতিথি পাখির পরিবর্তে যশোরের নেতা চাই’

৩০১

দেবু মল্লিক : সংসদ সদস্য মায়ের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার না হতেই এমপি হতে মাঠে নেমে পড়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মেয়ে নওরীণ সাদেক। তিনি ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করছেন। এছাড়া এরই মধ্যে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মায়ের পদ দখল নিতে নওরীণ সাদেকের এমন তৎপরতায় শুধু কেশবপুর নয়, পুরো যশোর জেলা জুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। পরদিন তার মরদেহ নির্বাচনী এলাকা কেশবপুরে আনা হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ বগুড়ায় নিয়ে দাফন করা হয়। ২৪ জানুয়ারি কেশবপুর পাইলট স্কুলে স্মরণসভার আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নওরীণ সাদেক। এরপর তিনি ঢাকা ঘুরে এসে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে নেমে পড়েন নির্বাচনী তৎপরতায়। এদিন উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এসময় তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কেশবপুরের মানুষের সমর্থন আদায়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা হয়েছে। ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমার বাবা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেক ও মা সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করতে আমি নির্বাচন করব। কেশবপুরকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।
গতকাল রোববারও নওরীণ সাদেক উপজেলার আঠন্ডা শ্রীফলা বাজার, ভান্ডারখোলা বাজার, বগারমোড় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন। এ সময় তিনি প্রয়াত বাবা-মায়ের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে উপনির্বাচনে তাকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।
সাদেক দম্পত্তির মেয়ে নওরীণ সাদেকের এই রাজনৈতিক তৎপরতায় উপজেলা আওয়ামী লীগের তপন কুমার ঘোষ মন্টু, দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য হাসান সাদেক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান শহীদ, কেশবপুর সদর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত থাকছেন।
কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম সরোয়ার বলেন, মায়ের মৃত্যুর সপ্তাহ পার না হতেই মেয়ের নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়ায় পুরো কেশবপুরজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের কাছে মায়া, মমতা, ভালোবাসা বা শোকের কোনো স্থান নেই। তারা চায় ক্ষমতা। নওরীণের বর্তমান তৎপরতায় উপজেলাবাসী তেমনটাই ভাবছেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার এই তৎপরতায় ধিক্কার জানাচ্ছেন।
কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, গত কয়েক বছর এই পরিবারের ক্ষমতার কাছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছেন। সেই ক্ষমতা ধরে রাখতে মায়ের শোক ভুলে সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন নওরীণ সাদেক। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। এতে হতবাক হয়েছেন উপজেলার মানুষ। তবে আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগ এবার অতিথি পাখির পরিবর্তে সংসদ সদস্য হিসেবে যশোরের স্থানীয় নেতা চাই। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে দলকে সংগঠিত করেছেন এমন নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেবেন।

মন্তব্য
Loading...