আশা জাগানিয়া খবর

৮৫

আশা জাগানিয়া কথা। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকা থেকে পান যাচ্ছে বিশ্বের ১১টি দেশে। আর এতে বদলে গেছে এই এলাকার ২০০ পানচাষির ভাগ্য। যশোরের পান যে বিদেশে যাচ্ছে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

মণিরামপুরের রাজগঞ্জ এলাকায় ঝালপান, মিষ্টি পান ও ভাবনা পানের চাষ হয়। এর মধ্যে মিষ্টি পানের দাম বেশি এবং এই পানটাই যাচ্ছে ইতালি, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্র্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও আরব আমিরাতসহ ১১টি দেশে। কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় রোহিতা ও মশ্মিমনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এবার সাড়ে ৩০০ হেক্টর জমিতে এই পানের চাষ হয়েছে। পান আবহমানকাল থেকে লোক-লৌকিকতার অন্যতম অনুষঙ্গ। এটি দিয়ে যত সহজে প্রিয়জনদের আপ্যায়ন করা যায় দ্বিতীয় অন্য কোনো কিছু দিয়ে তা হয় না। পান খাওয়ায় দোষের কিছু কেউ পাননি। পান খাওয়া অনেকের অভ্যাসে পরিণত হলেও সেটাকে নেশা হিসেবে চি‎িহ্নত করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে পান প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

বর্তমান সময়ে পানচাষসহ প্রতিটি ফসল উৎপাদন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। সেইসাথে শ্রমসাধ্যও বটে। চাষিদের হিসেবমতে, ২ একর পান চাষ করতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। অন্যান্য ফসল চাষে যেমন ঋণ সুবিধাসহ নানা ধরনের কৃষি প্রণোদনা পাওয়া যায় পান চাষের ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায় না। এ অবস্থার যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে পানচাষিরা এক সময় নিরুৎসাহিত হয়ে রপ্তানিযোগ্য পান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এমন অবস্থা হলে পান রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। দেশের পান বিদেশে যাচ্ছে। এতে পানচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। চাষিদের এই লাভের ভেতরেই কিন্তু সব কিছু সীমাবদ্ধ নয়। চাষিদের শ্রমে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। এমনিতেই আমাদের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের পরিমাণ কম। আর এ কারণে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পরিমাণও কম। এ ক্ষেত্রে পানচাষিরা পান উৎপাদন করে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়ায় তারা পান উৎপাদনে প্রণোদনা পাবার যোগ্য। স্বল্পমাত্রায় হলেও পান রপ্তানির যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা যেন বন্ধ হয়ে যাবার কারণ না ঘটে। রপ্তানি যাতে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন নতুন দেশ খুঁজে বের করার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ যে অপার সম্ভাবনার দেশ তাতে কারোরই দ্বিমত নেই। এই সম্ভাবনাকে সামনে করে জাতির যে যেখানে আছে সেখান থেকে সাধ্যানুসারে চেষ্টা করে তাহলে সব ক্ষেত্রে দেশটা দ্রুত অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে। আমাদের মত-পথ ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু দেশটা তো সবার।

 

মন্তব্য
Loading...