বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে যশোরে ‘৩২এর ক্রন্দন’ মঞ্চস্থ

৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে রচিত নাটক ‘৩২এর ক্রন্দন’। শনিবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতাকে স্মরণ করতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাটকটি পরিবেশিত হয়।
নাটকটিতে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে যে নারকীয় তা-ব হয়েছে তারই উপস্থাপন হয়েছে আধুনিক নাটকীয়তার ধারায়। এতে বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িতেদের চরিত্রসমূকেই কুশিলবেরা ধারণ করে ইতিহাসের বক্তব্যকে উদাত্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন। মহামানব হারানোর বেদনা সেখানে ৭৫এর আগস্ট থেকে মহাকালের দিকে ক্রমঅগ্রসারমান হয়েছে। রক্তপ্রবহমান ক্রন্দন অশ্রু ফিনিক্স পাখি হয়ে লাল সবুজের সম্ভাবনায় নবজন্মের প্রত্যয়ে সাংকেতিক ছায়াচিত্রের কোরিওয়াগ্রাফি হয়ে উঠেছে নাটকের উপস্থাপন শৈলী। এর সাথে সংগীত ও ডিজিটাল চিত্র প্রদর্শন আলোক প্রক্ষেপনাশ্রয়ে কুশিলবদের পরিবেশনা ঘটনাপ্রবাহ ও উপস্থাপনাকে সমৃদ্ধ করেছে।
নাটকটিতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আব্দুল আফনান ভিক্টর, ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ভূমিকায় রওশন আরা রাসু, শেখ হাসিনা চরিত্রে রূপদান করেছেন শ্রাবণী সুর, শেখ কামাল হয়েছিলেন জহির ইকবাল নান্নু, রাজাকার গোলাম আযম চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসিরউদ্দিন পিন্টু, খন্দকার মোস্তাকের চরিত্র অভিনয় করেন নওরোজ আলম খান চপল।
এছাড়া ইতিহাসের অন্যান্য সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন আতিকুজ্জামান রনি, শফিকুল ইসলাম পারভেজ, মানস বিশ্বাস, সনি চাকলাদার, নূরুজ্জামান বকুল, রিয়াদ রহমান, রাকিব উদ দৌলা শুভ, দেবদুলাল রায়, সোহানূর রহমান সোহাগ ও শিশুশিল্পী আরিয়ান মুগ্ধ। পাশপাশি মঞ্চে দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেন রাজু হোসেন, জাকির হোসেন, মাসুদ পারভেজ, শারমিন আক্তার সাথী, রফিকুল ইসলাম রাহাদ প্রমুখ। আবহ সংগীত পরিবেশনে ছিলেন জুনিথা দাস, সুজন শুরীদ, টিটো জামান ও এসএম আরিফুজ্জামান। সেট ও পোশাক পরিকল্পনা করেছেন আতিক্জুমান রনি।
‘৩২এর ক্রন্দন’ নাটক রচনা করেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন কামরুল হাসান রিপন, কোরিওগ্রাফি নির্দেশনায় ছিলেন জন সঞ্জীব চক্রবতীর্, ডিজিটাল উপস্থাপনায় সাইফুল ইসলাম শাওন ও আলোক নিয়ন্ত্রণ ও সম্পাত নির্দেশনায় ছিলেন আসিফ খান।
এদিন নাটকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু এবং শেষপর্বের আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। সভাপতিত্ব করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহসভাপতি সুকুমার দাস। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাবেক সাংসদ মনিরুল ইসলাম মনির, মুক্তিযোদ্ধা এইচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল ও জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য্য তুপা।

মন্তব্য
Loading...