৭ মার্চের ভাষণ ছিল স্বাধীনতার কৌশলী ঘোষণা: ব্রিটিশ গবেষক

১৬৩

ডেস্ক রিপোর্ট:ব্রিটেনের ইন্সটিটিউট অব কমনওয়েলথ স্টাডিজের অধ্যাপক জেমস মেনর বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালির স্বাধীনতার কৌশলী ঘোষণা। তার মতে, স্বাধীনতার এই ঘোষণায় বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবের কৌশল অবলম্বন করার বিভিন্ন কারণ ছিল। এই কৌশল অবলম্বন করে তিনি দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন।

মঙ্গলবার লন্ডনের দ্য স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে (সোয়াস) ‘শেখ মুজিবুর রহমান লেকচার ২০১৮’ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলেন তিনি।

সোয়াসের সাউথ এশিয়া ইন্সটিটিউটের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ লেকচারে ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, ডেপুটি হাইকমিশনার খোন্দকার মোহাম্মদ তালহা, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ছেলে রাশেদ সোহরাওয়ার্দী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুকসহ লন্ডনের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সেভেনথ্‌ মার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন আহমেদের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সোয়াস সাউথ এশিয়া ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক অ্যাডওয়ার্ড সিম্পসন।

‘আন্ডারস্টান্ডিং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: দ্য হার্ড রোড টু বাংলাদেশ’স ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যান্ড দ্য মিনিং অব মার্চ সেভেনথ্‌’ শীর্ষক লেকচারে প্রফেসর এমিরিটাস জেমস মেনর বলেন, ৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সমাবেশে হামলা চালানোর জন্য পাক সেনারা প্রস্তুত, এমন তথ্য জানার পর শেখ মুজিব চাননি তার প্রিয় বাঙালির রক্তে প্লাবিত হোক রেসকোর্স ময়দান। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে তিনি যে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চান এমনটি বোঝানোর জন্যই ৭ মার্চের বক্ত্যবে কৌশল অবলম্বন করেন।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা

অধ্যাপক মেনর বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে কৌশলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেখ মুজিব খুবই দুরদর্শী রাজনীতিক ছিলেন। তিনি বুঝতেন কঠিন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন শক্তিশালী সংগঠন ও ঐক্যবদ্ধ জনগণ। জনগণের মনোভাব তিনি খুবই ভালো বুঝতেন। দাবি আদায়ে আলোচনার টেবিলে যখন বসতেন, তখন পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা নিয়েই কথা বলতেন তিনি প্রতিপক্ষের সঙ্গে। তবে জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোসহীন।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক মেনরের মতে, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিলো শেখ মুজিবুর রহমানের। স্বাধীনতার জন্য নিজ দেশের জনগণকে দীর্ঘ সময় নিয়ে তৈরি করেছিলেন তিনি এবং উপযুক্ত সময় আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বাধীনতার ডাক দেন। নিজের জীবনের চেয়েও সহকর্মী ও জনগণের নিরাপত্তাকে শেখ মুজিব গুরুত্ব দিতেন বেশি। ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরুর আগেই সহকর্মী নেতাদের আত্মগোপনে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাকে না পেলে পুরো দেশটিই ম্যাসাকার করে ফেলবে পাকিস্তানি আর্মি- এই ধারণা থেকে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে ২৫ মার্চ রাতে তিনি পাকিস্তানি আর্মির কাছে ধরা দেন। দেশের মানুষের প্রতি কতটুকু মমত্ব থাকলে নিজের জীবন বিপন্ন করা যায় এ ঘটনায় সেটিই প্রমাণ হয়।

প্রবীণ অধ্যাপক জেমস মেনর বলেন, ব্যক্তি মুজিবকে হত্যা করলেও তার সৃষ্টি বাংলাদেশকে আটকে রাখতে পারেনি ঘাতকরা। আয়তনে ছোট হলেও বাংলাদেশ আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। অনেক ক্ষেত্রে এই দেশটি বিশাল প্রতিবেশী ভারতের চেয়েও এগিয়ে।

অধ্যাপক অ্যাডওয়ার্ড সিম্পসন বঙ্গবন্ধুকে একজন মহান নেতা আখ্যায়িত করে বলেন, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থেই এই নেতার বিশ্ব স্বীকৃতি প্রয়োজন।

নুরুদ্দিন আহমেদ জানান, ২০১৪ সাল থেকে দি সেভেনথ্‌ মার্চ ফাউন্ডেশন ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি ব্রিটেন এবং বাংলাদেশে নিয়মিত সেমিনার করে আসছে।সূত্র:সমকাল

মন্তব্য
Loading...