শার্শা ও নওগাঁয় বিএসএফের হাতে ৪ বাংলাদেশি নিহত!

৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের শার্শায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নির্যাতনে রাখাল ও নওগাঁর পোরশার হাঁপানিয়া সীমান্তে গুলিতে তিন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, শার্শার অগ্রভুলোট সীমান্তের ওপারে ভারতের ধোপপাড়া সীমান্তে বিএসএফ-র নির্যাতনে এক বাংলাদেশি গরুর রাখাল নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি হলেন শার্শার অগ্রভুলোট গ্রামের শাহজাহানের ছেলে হানিফ খোকা।

নিহতের পরিবার জানায়, হানিফ বুধবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিল। পরে তারা জানতে পারেন তিনি ভারতে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফ সদস্যদের হাতে ধরা পড়েন। ক্যাম্পে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ভারতের বনগাঁও হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তবিবুর রহমান বলেন, বিজিবি ও বিএসএফ-র সাথে যোগাযোগ করে মরদেহ আনার চেষ্টা চলছে। এদিকে নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

অগ্রভুলোট বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। তবে তাকে বিএসএফ নির্যাতন করে মেরেছে কিনা জানা যায়নি। তিনি অতিরিক্ত মদপানে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে বিএসএফ-এর দাবি। ভারত থেকে লাশ নেয়ার জন্যে তারা বিএসএফ-এর সাথে যোগাযোগ করছেন ।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার লাশ ভারতের গাইঘাটা পুলিশ হেফাজতে ছিল।

এদিকে নওগাঁর পোরশার হাঁপানিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তিন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার  ভোরে উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকার ২৩১/১০(এস) মেইন পিলারের নীলমারী বিল এলাকায় ভারতের ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ জোয়ানরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিজিবি।

নিহতরা হলেন- পোরশা উপজেলার বিষ্ণপুর বিজলীপাড়ার শুকরার ছেলে রনজিত কুমার (২৫), দিঘীপাড়া গ্রামের খোদাবক্সের ছেলে মফিজুল ইসলাম (৩৫) এবং কাঁটাপুকুরের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে কামাল হোসেন (৩২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বেশ কয়েকজন যুবক ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে গরু আনতে যান। তারা গরু নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার ভোররাতে পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকার ২৩১/১০(এস) মেইন পিলারের নীলমারী বিল এলাকায় ভারতের ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ জোয়ানরা গরু ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও তিন বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হন। গরু ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলামের গুলিবিদ্ধ মরদেহ বাংলাদেশের ২০০ গজ অভ্যন্তরে পড়ে ছিল। আর রনজিত কুমার ও কামাল হোসেনের মরদেহ ভারতের ৮০০ গজ অভ্যন্তরে পড়ে ছিল।

এ বিষয়ে ১৬ বিজিবির হাঁপানিয়া ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মোখলেছুর রহমান জানান, তিনজন গুলিবিদ্ধের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে গুলিবিদ্ধদের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একজন মারা গেছে। অপর দুইজন ভারতের অভ্যন্তরে মারা গেছে কি-না খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তিনি পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে চিঠি দিবেন বলেও জানান।

মন্তব্য
Loading...